শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করেছে। আমানত ফেরত চেয়ে আবেদন জমা দেওয়ার প্রথম দিনে সোমবার ৬ হাজার গ্রাহককে ২৫০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে ব্যাংকটি। আবেদনকারীরা নিজ নিজ শাখা থেকে এই অর্থ তুলেছেন।

আমানত ফেরতের পাশাপাশি গতকাল অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এতে দীর্ঘদিন পর ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে ব্যাংকটির শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান করা হয়। রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিলের একাধিক শাখায় সকালে টাকা তুলতে গ্রাহকদের ভিড় দেখা যায়।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, যেসব গ্রাহক আবেদন করেছিলেন, তাঁদের সবার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে যাঁরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের সবাই টাকা নিতে ব্যাংকে আসেননি। অনেক গ্রাহককে ব্যাংকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা টাকা জমা রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পর তা আবার ব্যাংকে জমা করেছেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে। ব্যাংকটি গঠিত হলেও এখনো পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলো আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৭৬১টি।
সরকারি সিদ্ধান্তে সোমবার সব ধরনের আমানতকারীর টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে আমানত ফেরত নিতে আগ্রহী গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন সংগ্রহ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে ৭৪ হাজার আমানতকারী ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন জমা দেন। গ্রাহকেরা যাতে টাকা তুলতে এসে খালি হাতে না ফেরেন, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
ইউনিয়ন ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম মোকাররম মাহমুদ জানান, প্রথম দিনে ওই শাখায় আটজন গ্রাহক টাকা তোলার আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে চারজন টাকা তুলেছেন। অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যেসব গ্রাহকের মুনাফা জমা আছে, তাঁরাও টাকা তুলতে পারছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার সংকটাপন্ন পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর সব শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করে পুরো মালিকানা সরকারের হাতে নেওয়া হয়।
ব্যাংকগুলোর আগের মালিকানার সময়ে বড় ধরনের ঋণ অনিয়মের ঘটনা ঘটে। দেশি-বিদেশি আর্থিক নিরীক্ষায় এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। নিরীক্ষা অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ৮০ শতাংশ ঋণ লুটপাট করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে গ্রাহকদের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে পারছিল না। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সরকারও ব্যাংকটির একীভূত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।