সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সমন্বিত নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি, বদলি, বেতন-স্কেলসহ চাকরিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। বৃহস্পতিবার ঢাকার পিটিআইয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি আরও সুসংহত হবে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত বিষয়গুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যেই এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জবাবদিহি থাকতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
শিক্ষার মান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে এসে শেখার সুযোগ দিতে হবে। কোনো শিশু বিদ্যালয়ে গিয়ে না শিখলে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য পূর্ণতা পাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মশালায় বিদ্যালয় পরিচালনায় কার্যকর নেতৃত্ব, প্রশাসনিক জবাবদিহি, দলগত কাজ এবং কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণেরও আয়োজন ছিল।
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বকে আরও দক্ষ, দায়িত্বশীল এবং কার্যকর করে তোলাই কর্মশালার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক ভূমিকা ও দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করার পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
নতুন সমন্বিত ও প্রশাসনিক নীতিমালায় বেতন-স্কেল, পদোন্নতি ও বদলিসহ চাকরিসংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি হবে বলে কর্মশালায় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।