সরকারি চাকরিতে ‘তদবির’ করলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা, ডোসিয়ারে থাকবে তথ্য—১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা নির্দেশনায় এমন অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তার ডোসিয়ার বা চাকরি-সংক্রান্ত নথিতে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবেদন করার সুযোগ বন্ধ হয়নি। বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি বা অন্য কোনো প্রশাসনিক বিষয়ে সমস্যা থাকলে সরকারি কর্মচারী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন। ফলে নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি বন্ধ করা।
- অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
- তদবিরের তথ্য তাই ডোসিয়ার বা চাকরির নথিতে রাখা হতে পারে।
- যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশ রয়েছে।
সরকারি চাকরিতে ‘তদবির’ করলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা
সরকারি চাকরিতে ‘তদবির’ করলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে তদবিরের ধরন, সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রমাণ এবং প্রশাসনিক মূল্যায়নের ওপর। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর পক্ষে অন্য কাউকে দিয়ে চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ বা প্রভাব সৃষ্টি করা হলে তা আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিধির আওতায় আসতে পারে।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও চিঠির একই বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের উৎস হিসেবে সোর্স দেখা যেতে পারে।
তবে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, শুধু তদবিরকারী ব্যক্তির আচরণ নয়, যে সরকারি কর্মচারীর পক্ষে তদবির করা হয়েছে তার ভূমিকাও গুরুত্ব পাবে। ফলে কোনো কর্মকর্তা নিজে সরাসরি যোগাযোগ না করলেও তার হয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের পাঠানো হয়েছে কি না, সেটিও প্রশাসনিকভাবে বিবেচিত হতে পারে।
কেন এই নির্দেশনা জারি হলো?
নির্দেশনার পেছনে মূল কারণ হলো চাকরি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব কমানো। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের কারও কারও পক্ষে বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি বা অন্যান্য চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে যাচ্ছেন।
এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীরা কী ধরনের আচরণ করবেন, তা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধিতে নির্ধারিত আছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরকে ওই বিধিমালার বিধি ২০-এর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক অসন্তোষ হিসেবে দেখা হবে না; বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
‘তদবির’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?
এই প্রেক্ষাপটে তদবির বলতে বোঝানো হচ্ছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরি-সংক্রান্ত দাবি বা সুবিধা আদায়ের জন্য অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব, চাপ বা সুপারিশ সৃষ্টি করা। তবে সাধারণ তথ্য চাওয়া বা নিয়মিত দাপ্তরিক যোগাযোগ এর সঙ্গে এক নয়।
ধরা যাক, কোনো কর্মচারী বদলির বিষয়ে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন না করে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রভাবশালী কর্মকর্তা বা পরিচিত ব্যক্তিকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাপ সৃষ্টি করালেন। এমন পরিস্থিতি নির্দেশনার আওতায় পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই ঘটনার তথ্য ও প্রযোজ্য বিধি দেখে নেওয়া হবে।
তদবির করলে কী ধরনের ব্যবস্থা হতে পারে?
অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের অভিযোগ প্রমাণিত বা প্রশাসনিকভাবে গ্রহণযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে নির্দেশনায় সম্ভাব্য ব্যবস্থার কোনো নির্দিষ্ট শাস্তি আলাদা করে বলা হয়নি।
ফলে প্রতিটি ঘটনায় একই ধরনের ফল হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। ঘটনার প্রকৃতি, প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ভূমিকা এবং প্রযোজ্য বিধিমালার ধারা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। এই জায়গায় অতিরঞ্জিত নিশ্চয়তা না দিয়ে বলা যায়, তদবিরের ঘটনা এখন চাকরি-সংক্রান্ত শৃঙ্খলা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
| বিষয় | নির্দেশনায় যে অবস্থান স্পষ্ট |
|---|---|
| অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির | আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে |
| শৃঙ্খলাগত প্রভাব | অসদাচরণ হিসেবে বিভাগীয় ব্যবস্থা হতে পারে |
| চাকরির নথি | ঘটনার তথ্য ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হতে পারে |
| বৈধ আবেদন | যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে |
| আবেদন নিষ্পত্তি | সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে |
ডোসিয়ারে তথ্য রাখা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সরকারি কর্মচারীর ডোসিয়ার বা চাকরি-সংক্রান্ত নথিতে সাধারণত তার চাকরিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকে। নতুন নির্দেশনায় অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের ঘটনার তথ্যও সেখানে রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে ঘটনাটি শুধু তৎকালীন একটি অভিযোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
ডোসিয়ারে কোনো তথ্য সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে চাকরি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক মূল্যায়নের সময় সেটি নথির অংশ হিসেবে সামনে আসতে পারে। তবে কোনো তথ্য কীভাবে নথিভুক্ত হবে বা পরবর্তী প্রক্রিয়ায় কীভাবে বিবেচিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিধি ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
একজন নতুন সরকারি কর্মচারীর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির শুরুতে বদলি বা পদায়ন নিয়ে অনানুষ্ঠানিক সহায়তা নেওয়া সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ চাকরি-নথিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত লিখিত আবেদন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও যাচাইযোগ্য পথ।
বৈধভাবে আবেদন করার সুযোগ কীভাবে থাকবে?
সরকারি কর্মচারীরা চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ নির্দেশনাটি সব ধরনের আবেদন নিষিদ্ধ করছে না; বরং আবেদন করার নিয়মতান্ত্রিক পথটি স্পষ্ট করছে।
বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা চাকরি-সংক্রান্ত অন্য কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে আবেদনটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করতে হবে। আবেদনে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা, প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা এবং দাপ্তরিক রিসিভ কপি বা গ্রহণের প্রমাণ রাখা বাস্তবভাবে উপকারী।
- প্রথমে সমস্যার ধরন স্পষ্ট করুন।
- এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাম ও দপ্তর নির্ধারণ করুন।
- লিখিত আবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় নথি যুক্ত করুন।
- তারপর দাপ্তরিক চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন জমা দিন।
- আবেদনের গ্রহণের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
- যৌক্তিক সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে নিয়ম অনুযায়ী অনুস্মারক দিন।
সাধারণ একটা ভুল হলো, আবেদন জমা দেওয়ার পরও একই বিষয়ে একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে ফোন বা সুপারিশ করানো। ফলে বৈধ আবেদনটি অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে আবেদনটির নিষ্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে দাপ্তরিক অনুস্মারক ও লিখিত যোগাযোগ ব্যবহার করাই বেশি স্বচ্ছ পদ্ধতি।
এক মাসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ
যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চাকরি-সংক্রান্ত আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তা যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে এই সময়সীমা কর্মচারীদের বৈধ প্রশাসনিক প্রতিকার পাওয়ার পথকে আরও স্পষ্ট করে।
এখানে ‘নিষ্পত্তি’ বলতে সব আবেদন মঞ্জুর করতে হবে—এমন অর্থ বোঝায় না। কর্তৃপক্ষ আবেদন পরীক্ষা করে গ্রহণ, প্রত্যাখ্যান বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিদ্ধান্তটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিবেচনা করা এবং অনানুষ্ঠানিক তদবিরের ওপর নির্ভর না করা।
ধরা যাক, কোনো কর্মচারী পারিবারিক কারণে বদলির আবেদন করলেন। তিনি যথাযথ মাধ্যমে আবেদন জমা দিয়ে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করতে পারেন। তবে বদলি মঞ্জুর হবে কি না, তা নির্ভর করবে প্রশাসনিক প্রয়োজন, পদায়নের নীতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য করণীয়
নির্দেশনার আলোকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো নিজের চাকরি-সংক্রান্ত বিষয় লিখিত ও দাপ্তরিক পথে উপস্থাপন করা। তাই মৌখিক সুপারিশ বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের বদলে নথিভুক্ত আবেদন ভবিষ্যতে বিষয়টির অবস্থান পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
- চাকরি-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে লিখিত আবেদন করুন।
- আবেদন যথাযথ প্রশাসনিক চ্যানেলে পাঠান।
- এ ছাড়া প্রাসঙ্গিক আদেশ, নথি বা প্রমাণ সংযুক্ত রাখুন।
- আবেদনের রিসিভ কপি ও ডায়েরি নম্বর সংরক্ষণ করুন।
- একই বিষয়ে বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করানোর চেষ্টা করবেন না।
- প্রয়োজনে নিয়ম অনুযায়ী লিখিত অনুস্মারক দিন।
চাকরি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক পরিবেশ বোঝার ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ ও প্রযোজ্য বিধিমালা দেখা জরুরি। একইভাবে বেতন, পদায়ন বা চাকরির কাঠামো নিয়ে পরিবর্তন এলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা উচিত। এ বিষয়ে পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে দিনভর আলোচনা প্রতিবেদনটিও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
যে ভুলগুলো ঝুঁকি বাড়াতে পারে
অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরের ঝুঁকি শুধু সরাসরি সুপারিশে সীমাবদ্ধ নয়। যেমন, একই বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি দিয়ে ফোন করানো, প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করা বা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে।
- আবেদন না করে আগে ব্যক্তিগত সুপারিশের পথ নেওয়া।
- একই বিষয়ে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে যুক্ত করা।
- দাপ্তরিক নথি ছাড়া শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করা।
- আবেদনের বিষয়বস্তু অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ রাখা।
- প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে সামাজিক বা ব্যক্তিগত চাপ তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের প্রশাসনিক দৃষ্টিতে সবচেয়ে কার্যকর পার্থক্যটি হলো ‘আবেদন’ এবং ‘প্রভাব সৃষ্টি’-এর মধ্যে। একদিকে আবেদন নিয়ম, নথি ও নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা হয়। অন্যদিকে তদবিরে সাধারণত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকে।
প্রশ্নোত্তর
সরকারি চাকরিতে তদবির করলেই কি নিশ্চিত শাস্তি হবে?
নির্দেশনায় বিভাগীয় ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তবে প্রতিটি ঘটনায় একই শাস্তি হবে না। বরং ঘটনার ধরন, প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ভূমিকা এবং প্রযোজ্য বিধি বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
বদলির জন্য কি সরকারি কর্মচারী আবেদন করতে পারবেন?
বদলি বা অন্য চাকরি-সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে নিষেধাজ্ঞাটি নিয়মিত আবেদন নয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি-নির্ভর তদবিরের বিরুদ্ধে।
তদবিরের তথ্য কোথায় রাখা হতে পারে?
নির্দেশনা অনুযায়ী তদবিরের ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য কর্মচারীর ডোসিয়ার বা চাকরি-সংক্রান্ত নথিতে সংরক্ষণ করা হতে পারে।
আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা কত?
যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা চাকরি-সংক্রান্ত আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৌখিকভাবে খোঁজ নেওয়াও কি তদবির?
সাধারণ দাপ্তরিক তথ্য জিজ্ঞাসা ও অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ এক বিষয় নয়। কিন্তু ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা হলে সেটি তদবির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আচরণবিধির কোন বিধির কথা বলা হয়েছে?
নির্দেশনায় সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২০-এর লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের প্রসঙ্গ এসেছে।
নিয়ম মেনে চলার পথ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নির্দেশনায় দুটি বিষয় পাশাপাশি স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির বন্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ডোসিয়ারে তথ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের বৈধ আবেদন করার অধিকারও বজায় রাখা হয়েছে।
তাই চাকরি-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে ব্যক্তিগত প্রভাবের বদলে লিখিত আবেদন, যথাযথ প্রশাসনিক চ্যানেল এবং নথিভুক্ত যোগাযোগ ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা ও প্রযোজ্য বিধি যাচাই করলে ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি কমে।