সোনালী ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ২০২৬ কিনতে চাইলে প্রথমেই বুঝে নিন কোন স্কিম আপনার হাতে থাকা টাকা ও আয়ের ধরন অনুযায়ী মানানসই। যেমন, এককালীন সঞ্চয় থাকলে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র বা তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র বিবেচনা করা যায়। আবার নারী, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব পুরুষ এবং নির্দিষ্ট শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিবার সঞ্চয়পত্রের আলাদা যোগ্যতা রয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের শাখায় আবেদন করতে সাধারণত এনআইডি, ছবি, নমিনি তথ্য ও সক্রিয় ব্যাংক হিসাব লাগে। তবে মুনাফার হার ছয় মাস পরপর পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ২০২৬ সালের কোনো হার বা নিয়মকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার আগে নিকটস্থ শাখা অথবা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করুন।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
- সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে প্রচলিত বিভিন্ন সরকারি সঞ্চয়পত্র কেনা যায়।
- জানুয়ারি ২০২৬-এর সমন্বয়ে প্রকাশিত পরিসরে সর্বোচ্চ হার ছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
- নতুন বিনিয়োগের হার, কর ও সীমা স্কিম এবং বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী বদলাতে পারে।
- ফরম জমা দেওয়ার আগে নমিনি, ব্যাংক হিসাব ও অর্থের উৎসসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
সঞ্চয়পত্র কেন জনপ্রিয়?
সঞ্চয়পত্র হলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত সরকারি সঞ্চয় বন্ড। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে উৎসাহ দেওয়া এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহ করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। সরকারি নিশ্চয়তার কারণে অনেক মানুষ ব্যাংক আমানত বা শেয়ারবাজারের তুলনায় এটিকে কম ঝুঁকির সঞ্চয় মাধ্যম মনে করেন।
এছাড়াও সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘর থেকে নির্দিষ্ট সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। সোনালী ব্যাংকের দেশজুড়ে বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক থাকায় আবেদন, কাগজপত্র যাচাই ও নগদায়নের জন্য এটি ব্যবহারিকভাবে সহজলভ্য একটি মাধ্যম।
কোন ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে?
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে প্রচলিত প্রধান স্কিমগুলো আলাদা উদ্দেশ্যে তৈরি। কারও দরকার নিয়মিত আয়, কারও লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি, আবার কেউ নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবার বা পেনশনার স্কিম বেছে নিতে পারেন। তাই শুধু মুনাফার হার দেখে সিদ্ধান্ত নিলে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নাও মিলতে পারে।
| সঞ্চয়পত্রের ধরন | কার জন্য উপযোগী | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র | প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক | দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয় |
| পরিবার সঞ্চয়পত্র | যোগ্য নারী, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব পুরুষ ও নির্দিষ্ট শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি | নির্দিষ্ট মূল্যমান এবং ধাপে পরিবর্তনশীল মুনাফা |
| তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র | নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন এমন বিনিয়োগকারী | প্রতি তিন মাসে মুনাফা প্রদানের ব্যবস্থা |
| পেনশনার সঞ্চয়পত্র | অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী | যোগ্য অবসরপ্রাপ্তদের জন্য নির্ধারিত স্কিম |
তাছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মতো আলাদা স্কিমও রয়েছে। এগুলোর যোগ্যতা, মুদ্রা, মুনাফা ও নগদায়ন পদ্ধতি সাধারণ সঞ্চয়পত্রের চেয়ে আলাদা হতে পারে।
সোনালী ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ২০২৬-এর হার
সোনালী ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ২০২৬-এর মুনাফার হার একবার নির্ধারিত হয়ে পুরো বছর অপরিবর্তিত থাকবে, এমন নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সাধারণত ছয় মাস অন্তর হার পুনর্নির্ধারণ করে। ফলে বিনিয়োগের তারিখ এবং প্রযোজ্য পরিপত্রের সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ।
জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর সমন্বয়ের প্রকাশিত তথ্যে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বলা হয়েছিল। তবে এই পরিসরকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর চূড়ান্ত বর্তমান হার হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না, কারণ জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের স্কিমভেদে হালনাগাদ হার আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
হার কীভাবে প্রযোজ্য হয়?
নতুন করে সঞ্চয়পত্র কেনার সময়কার প্রযোজ্য হার সাধারণত সেই বিনিয়োগের জন্য বিবেচিত হয়। অন্যদিকে আগে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম ও হার বহাল থাকতে পারে। মেয়াদ শেষে টাকা তুলে পুনর্বিনিয়োগ করলে নতুন বিনিয়োগের তারিখের হার প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো। বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে স্তরভিত্তিক কাঠামোর কারণে মুনাফার হার তুলনামূলক কমে। অর্থাৎ ছোট অঙ্কের বিনিয়োগকারী এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগকারীর জন্য একই হার নাও থাকতে পারে। তাই শাখা থেকে শুধু সর্বোচ্চ হার শুনে নিজের সম্ভাব্য মুনাফা হিসাব করা উচিত নয়।
কেনার প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র
সোনালী ব্যাংকের শাখায় সঞ্চয়পত্র কিনতে আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তা তথ্য যাচাই করার পর ইস্যু সম্পন্ন করেন এবং একটি নিবন্ধন নম্বর দেন। ভবিষ্যতে মুনাফা গ্রহণ, নগদায়ন বা তথ্য সংশোধনের সময় এই নম্বর দরকার হতে পারে।
- প্রথমে ক্রেতা এবং নমিনির সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রস্তুত করুন।
- ক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিন। অপ্রাপ্তবয়স্ক নমিনির ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে।
- প্রযোজ্য হলে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা TIN সনদ দিন।
- BEFTN-এর মাধ্যমে টাকা ও মুনাফা গ্রহণের জন্য সক্রিয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য লিখুন।
- সর্বোচ্চ দুইজন নমিনি মনোনীত করে প্রত্যেকের প্রাপ্যতার হার উল্লেখ করুন।
- সবশেষে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নগদ বা চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করুন।
ব্যাংক হিসাবের তথ্য কেন জরুরি?
ফরমে হিসাবের ধরন, হিসাবের শিরোনাম, হিসাব নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখার নাম ও রাউটিং নম্বর সঠিকভাবে দিতে হয়। একটি সংখ্যা ভুল হলে মুনাফা বা মূল টাকা জমা পড়তে বিলম্ব হতে পারে। তাই জমা দেওয়ার আগে ফরমের তথ্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা চেকবইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে টাকা নিয়ে আবেদন করছেন। তাঁর জন্য নমিনি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য ঠিক থাকা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। ভবিষ্যতে অসুস্থতা, মৃত্যু বা ব্যাংক পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতিতে ভুল তথ্য পরিবারকে অতিরিক্ত কাগজপত্রের ঝামেলায় ফেলতে পারে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রের ফরম
পরিবার সঞ্চয়পত্র মূলত নারীদের জন্য নির্ধারিত। ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব নারী, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব পুরুষ এবং নির্দিষ্ট শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যোগ্যতার আওতায় পড়তে পারেন। তবে যোগ্যতার প্রমাণ ও প্রযোজ্য নথি শাখাভেদে যাচাই করা হতে পারে।
এই স্কিমের প্রচলিত মূল্যমান হলো ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। পরিবার সঞ্চয়পত্র জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে কেনা এবং নগদায়ন করা যায়।
ফরমে কোন তথ্য থাকে?
- ক্রেতার নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল।
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ক্রেতার যোগ্যতার ধরন।
- পরিশোধের পদ্ধতি ও ব্যাংক হিসাবের বিবরণ।
- সর্বোচ্চ দুইজন নমিনির নাম, পরিচয়, জন্মতারিখ, ঠিকানা, সম্পর্ক ও প্রাপ্যতার হার।
- ঘোষণা, অঙ্গীকারনামা ও ক্রেতার স্বাক্ষর।
ফরমের ঘোষণা অংশে সাধারণত তথ্য সঠিক দেওয়া এবং সঞ্চয়পত্রের বিধিমালা মানার অঙ্গীকার থাকে। এছাড়াও ক্রেতার মৃত্যু হলে নমিনি বা বৈধ উত্তরাধিকারীকে ইস্যু অফিসে অবহিত করার শর্ত থাকতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পেমেন্ট বন্ধ বা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
ফরম ডাউনলোড ও জমা
পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের আবেদন ফরম জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে PDF আকারে পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে, সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকেও সাধারণত ফরম বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়। প্রকাশের আগে ওয়েবসাইটে থাকা ফরমের সর্বশেষ সংস্করণ মিলিয়ে নিন।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ফরমে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মতো ক্রেতা, নমিনি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য থাকে। তবে এই স্কিমে সর্বোচ্চ দুইজন ক্রেতার যৌথ নামে কেনার সুযোগ থাকতে পারে। যৌথ আবেদন হলে প্রতিটি ক্রেতার তথ্য আলাদাভাবে পূরণ করতে হয়।
ভুল কমানোর ব্যবহারিক কৌশল
- ফরমে নামের বানান এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখুন।
- এছাড়াও নমিনির মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ও পরিচয়পত্রের তথ্য আগে যাচাই করুন।
- ৫০%-৫০% বা অন্য বণ্টন লিখলে মোট প্রাপ্যতা ১০০ শতাংশ হচ্ছে কি না দেখুন।
- সই করার আগে ব্যাংক হিসাবের নম্বর এবং রাউটিং নম্বর পুনরায় পড়ুন।
- জমা দেওয়ার পর নিবন্ধন নম্বর, রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথির কপি নিরাপদে রাখুন।
জরুরি নিয়ম ও সাধারণ ভুল
সঞ্চয়পত্র কেনার আগে নগদায়নের নিয়ম বোঝা দরকার। সাধারণত একবার কেনার পর আংশিকভাবে ভাঙানো যায় না; পুরো সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে হয়। তাই জরুরি প্রয়োজনের টাকা একটিমাত্র বড় মূল্যমানের সঞ্চয়পত্রে আটকে না রেখে সুবিধাজনক কয়েকটি ছোট অঙ্কে ভাগ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়।
এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে সাধারণত মুনাফা পাওয়া যায় না এবং মূল টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এক বছরের পর আগাম নগদায়নের নিয়ম ও প্রাপ্য মুনাফা প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শাখা থেকে লিখিত হিসাব বা প্রাপ্য অর্থ জেনে নিন।
কর ও সীমা সম্পর্কে সতর্কতা
মুনাফার ওপর আয়কর আইনের অধীনে উৎসে কর কর্তন হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি টাকা নগদায়ন করে হিসাবে জমা হলে প্রযোজ্য আবগারি শুল্ক কাটা যেতে পারে। করের হার ও প্রয়োগ বিনিয়োগের ধরন, পরিমাণ এবং প্রচলিত নিয়মের ওপর নির্ভর করায় নির্দিষ্ট হিসাবের জন্য ব্যাংক বা কর বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।
একজন ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে নির্দিষ্ট সীমার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এই সীমা স্কিমভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ ভুল হলো বিভিন্ন ইস্যু অফিসে করা বিনিয়োগের মোট পরিমাণ বিবেচনা না করে নতুন আবেদন করা। আবেদন করার আগে নিজের বিদ্যমান বিনিয়োগের হিসাব মিলিয়ে নিন।
সঞ্চয়পত্র বনাম ডিপিএস
সঞ্চয়পত্র এবং ডিপিএস দুটিই সঞ্চয়ের মাধ্যম, কিন্তু টাকা জমা দেওয়ার ধরন আলাদা। ডিপিএসে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিস্তি দিতে হয়। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে সাধারণত একবারে একটি বড় অঙ্ক বিনিয়োগ করা হয়। তাই কোনটি ভালো, তার উত্তর নির্ভর করে আপনার হাতে থাকা টাকা, মাসিক আয় ও নগদ প্রয়োজনের ওপর।
| বিষয় | সঞ্চয়পত্র | ডিপিএস |
|---|---|---|
| অর্থ জমার ধরন | সাধারণত এককালীন বিনিয়োগ | নিয়মিত মাসিক কিস্তি |
| উপযোগী বিনিয়োগকারী | হাতে এককালীন সঞ্চয় থাকা ব্যক্তি | মাসিক আয়ের মানুষ বা নতুন চাকরিজীবী |
| আয় পাওয়ার ধরন | স্কিম অনুযায়ী নিয়মিত বা মেয়াদান্তে | সাধারণত মেয়াদ শেষে মূল টাকা ও মুনাফা |
| প্রধান সুবিধা | সরকারি নিশ্চয়তা এবং নির্দিষ্ট স্কিমে নিয়মিত মুনাফা | ছোট কিস্তিতে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে ওঠে |
| সীমাবদ্ধতা | আংশিক নগদায়ন সাধারণত হয় না | কিস্তি বন্ধ হলে চুক্তির শর্ত প্রভাবিত হতে পারে |
মাসে মাসে সঞ্চয় করার লক্ষ্য থাকলে ডিপিএস বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। বিপরীতে, হাতে থাকা এককালীন টাকা নিরাপদে রেখে নিয়মিত মুনাফা পেতে চাইলে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র বিবেচনা করা যায়। তবে মুনাফার হার, কর, আগাম ভাঙানোর নিয়ম ও ব্যাংকের নিজস্ব শর্ত পাশাপাশি যাচাই করুন।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সহজ কাঠামো
- প্রথমে দেখুন আপনার টাকা এককালীন নাকি মাসিকভাবে আসে।
- তারপর জরুরি প্রয়োজনে কত টাকা হাতে রাখা দরকার, তা আলাদা করুন।
- নিয়মিত মুনাফা দরকার হলে প্রাসঙ্গিক সঞ্চয়পত্রের পেমেন্ট কাঠামো যাচাই করুন।
- মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা লাগতে পারে কি না, তা বাস্তবভাবে বিবেচনা করুন।
- সবশেষে কর কেটে হাতে কত টাকা থাকবে, সেটি ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে নিশ্চিত করুন।
সিদ্ধান্তের আগে শেষ যাচাই
সোনালী ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ২০২৬ বেছে নেওয়ার সময় শুধু নিরাপত্তা বা ঘোষিত মুনাফার হার দেখলেই হবে না। আপনার বিনিয়োগের সময়কাল, নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন, নগদ অর্থের জরুরি চাহিদা, কর এবং নমিনি ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো হারে কেনা সঞ্চয়পত্র ভেঙে নতুন হারে বিনিয়োগ করলে লাভ বাড়বেই, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ফরম পূরণে ভুল এড়াতে পরিষ্কার হাতের লেখা বা টাইপ করা তথ্য ব্যবহার করুন। এরপর জমা দেওয়ার আগে অফিসিয়াল ফরম, বর্তমান মুনাফার হার, বিনিয়োগ সীমা ও করের নিয়ম যাচাই করুন। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পর হার বা পরিপত্র বদলালে শাখার সর্বশেষ তথ্যই প্রাধান্য পাবে।
সাধারণ তথ্যের সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক লেখা। নির্দিষ্ট বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের আগে সোনালী ব্যাংকের নিকটস্থ শাখা, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বা যোগ্য আর্থিক ও কর পরামর্শকের কাছ থেকে বর্তমান নিয়ম যাচাই করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সোনালী ব্যাংক থেকে কি সঞ্চয়পত্র কেনা যায়?
সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা থেকে প্রচলিত বিভিন্ন সরকারি সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। তবে স্কিমভেদে সেবা, কাগজপত্র ও ইস্যু প্রক্রিয়া আগে শাখায় নিশ্চিত করা ভালো।
সঞ্চয়পত্র কিনতে কোন কাগজপত্র লাগে?
সাধারণত ক্রেতার এনআইডি, ক্রেতা ও নমিনির ছবি, ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে TIN লাগে। অপ্রাপ্তবয়স্ক নমিনির জন্য জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্টের তথ্য লাগতে পারে।
পরিবার সঞ্চয়পত্র কে কিনতে পারেন?
সাধারণত ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব নারী, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব পুরুষ এবং নির্দিষ্ট শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পরিবার সঞ্চয়পত্রের যোগ্য হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত যোগ্যতা নথি যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে।
সঞ্চয়পত্র কি এক বছর পর ভাঙানো যায়?
মেয়াদপূর্তির আগে নির্দিষ্ট নিয়মে নগদায়ন করা যেতে পারে। তবে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙালে সাধারণত মুনাফা পাওয়া যায় না। আগাম নগদায়নের আগে শাখা থেকে প্রাপ্য অর্থ জেনে নিন।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কি স্থায়ী?
হার স্থায়ী নয়। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় মাস অন্তর হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নতুন বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সময়ের স্কিমভিত্তিক হার যাচাই করুন।
সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএসের মধ্যে কোনটি ভালো?
এককালীন সঞ্চয় থাকলে সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক কিস্তিতে সঞ্চয় করতে চাইলে ডিপিএস বেশি উপযোগী হতে পারে। তাই আপনার নগদ প্রয়োজন, মেয়াদ, কর ও প্রত্যাশিত আয়ের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।