পেট্রোবাংলা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ নামে অনলাইনে খোঁজা বিজ্ঞপ্তিটি আসলে ৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। তাই ২০২৬ সালের নতুন নিয়োগ ধরে আবেদন করা যাবে না। বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা ও অধীনস্থ কোম্পানিগুলোতে মোট ৭৫৩টি শূন্যপদের কথা বলা হয়েছিল। তবে আবেদনের সময়সীমাও ১৮ এপ্রিল ২০২৪-এ শেষ হয়েছে।
এই তথ্যটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুরোনো বিজ্ঞপ্তির আবেদন পোর্টাল দেখা গেলেও সেটি নতুন আবেদন গ্রহণ করছে কি না তা অফিসিয়াল নোটিশ ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না। মূল বিজ্ঞপ্তির স্মারক নম্বর ছিল ২৮.০২.০০০০.০১১.২৬.০২৬.২৪.২৯০ এবং প্রকাশের তারিখ ২১ ফাল্গুন ১৪৩০, অর্থাৎ ৫ মার্চ ২০২৪।
- নিয়োগদাতা: বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন এবং অধীনস্থ কোম্পানিসমূহ
- মোট শূন্যপদ: ৭৫৩টি
- পদ: ৯ম ও ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি পদ
- আবেদনের পুরোনো সময়সীমা: ১৯ মার্চ ২০২৪ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৪
পেট্রোবাংলা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ আসলে কী?
পেট্রোবাংলা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ নামে প্রচারিত তথ্যটি যাচাই করলে দেখা যায়, ব্যবহার করা বিজ্ঞপ্তিটি ২০২৪ সালের। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিজিএফসিএল, এসজিএফএল, জিটিসিএলসহ মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। তাই ২০২৬ সালের নতুন সার্কুলার হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন, আইন, অর্থ, প্রকৌশল, কারিগরি, চিকিৎসা, ড্রিলিং, লাইব্রেরি, কেমিস্ট্রি, সার্ভেয়িং, নার্সিং এবং বিভিন্ন ডিপ্লোমা-ভিত্তিক পদ ছিল। পদভেদে বেতনস্কেল ছিল ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা অথবা ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা। এছাড়াও বিজিএফসিএলের কিছু ৯ম গ্রেডের পদের জন্য ২৩,০০০–৫৫,৪৭০ টাকা স্কেল উল্লেখ করা হয়েছিল।
৭৫৩ পদের সংক্ষিপ্ত তালিকা
নিচের তালিকায় বিজ্ঞপ্তির পদ, শূন্যপদ, গ্রেড ও মূল যোগ্যতা একসঙ্গে দেওয়া হলো। ফলে কোন শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট পদে আগ্রহী ছিলেন তা দ্রুত বোঝা যায়।
| পদ ও ডিসিপ্লিন | পদসংখ্যা | গ্রেড | মূল যোগ্যতা |
|---|---|---|---|
| সহকারী ব্যবস্থাপক, প্রশাসন | ১১৮ | ৯ | যে কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর অথবা এইচএসসির পর চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি |
| সহকারী ব্যবস্থাপক, আইন | ৭ | ৯ | আইনে স্নাতকোত্তর অথবা চার বছর মেয়াদি আইন ডিগ্রি |
| সহকারী ব্যবস্থাপক, অর্থ | ৮৭ | ৯ | বাণিজ্যিক বিষয়ে স্নাতকোত্তর অথবা চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি |
| সহকারী ব্যবস্থাপক, প্রকৌশল | ২০২ | ৯ | প্রাসঙ্গিক প্রকৌশল বিষয়ে বিএসসি অথবা চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা |
| সহকারী ব্যবস্থাপক, কারিগরি | ৩৫ | ৯ | জিওলজি, জিওফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, পরিবেশ, মার্কেটিংসহ নির্দিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি |
| সহকারী কারিগরি কর্মকর্তা | ২ | ৯ | বিএসসি-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান বা কারিগরি বিষয়ে স্নাতকোত্তর, অথবা ডিপ্লোমা ও পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা |
| সহকারী ব্যবস্থাপক, চিকিৎসা | ৩ | ৯ | এমবিবিএস এবং বিএমডিসি নিবন্ধন |
| সহকারী ড্রিলার | ১ | ৯ | নির্দিষ্ট প্রকৌশল বিষয়ে বিএসসি অথবা সংশ্লিষ্ট ডিপ্লোমা ও পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা |
| সহকারী কর্মকর্তা, প্রশাসন | ৭৫ | ১০ | স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি; বিকল্পভাবে স্নাতক ও ১৩তম গ্রেডে তিন বছরের অভিজ্ঞতা |
| সহকারী কর্মকর্তা, লাইব্রেরি | ১ | ১০ | লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি |
| সহকারী কর্মকর্তা, আইন | ১ | ১০ | আইনে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি আইন ডিগ্রি |
| সহকারী কর্মকর্তা, অর্থ | ৫০ | ১০ | বাণিজ্যিক বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি |
| উপ-সহকারী প্রকৌশলী | ৭৮ | ১০ | সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং |
| সহকারী কর্মকর্তা, কারিগরি | ২ | ১০ | বিজ্ঞান বা কারিগরি বিষয়ে স্নাতকোত্তর, চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা |
| সহকারী কর্মকর্তা, কেমিস্ট | ১ | ১০ | কেমিস্ট্রি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর, চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতাসহ স্নাতক |
| সার্ভেয়ার | ৪ | ১০ | মাইনিং অ্যান্ড মাইন সার্ভে টেকনোলজিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা |
| ট্রেইনী ড্রিলার | ২ | ১০ | পাওয়ার, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল বা মাইনিং টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা |
| নার্স/ব্রাদার | ১ | ১০ | নার্সিংয়ে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা এবং বিএনএমসি নিবন্ধন |
প্রকৌশল পদের ডিসিপ্লিন
সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) পদে মেকানিক্যাল ৭১টি, ইলেকট্রিক্যাল ৪৭টি, সিভিল ২২টি, সিএসই/আইটি/আইসিটি ১৭টি, কেমিক্যাল ২২টি, পেট্রোলিয়াম/পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ১১টি, আইপিই ৪টি, এমএমই ২টি, ইলেকট্রনিক্স ৩টি, নেভাল আর্কিটেকচার ১টি এবং টেলিকম ২টি পদ ছিল।
বিএসসি-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে আবেদন করতে পারতেন। তবে ডিপ্লোমাধারীদের ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমার পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। তাই শুধু ডিপ্লোমা থাকলেই সব প্রকৌশল পদে আবেদনযোগ্যতা তৈরি হয়নি।
উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিভাগ
উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে মেকানিক্যাল ৩৬টি, ইলেকট্রিক্যাল ১৬টি, ইলেকট্রনিক্স ২টি, সিভিল ১১টি, কম্পিউটার/আইটি ৩টি, অটোমোবাইল ১টি, কেমিক্যাল ১টি, পাওয়ার ১টি, এনভায়রনমেন্ট ১টি এবং মাইনিং ৬টি পদ ছিল। এছাড়া প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং চাওয়া হয়।
বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত
বিজ্ঞপ্তিতে বয়স গণনার তারিখ ছিল ১ মার্চ ২০২৪। সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হয়েছে। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা এবং প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ছিল ২১ থেকে ৩২ বছর। বয়স প্রমাণে এসএসসি বা সমমানের সনদে থাকা জন্মতারিখ গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছিল।
কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি, তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের সিজিপিএ থাকলে আবেদন বিবেচনা করা হয়নি। একইভাবে বয়স সংশোধনের জন্য এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য ছিল না। O Level, A Level এবং বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমমান সনদ প্রয়োজন ছিল।
- আবশ্যিক শিক্ষাগত সনদে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের ফল থাকা যাবে না।
- বিদেশি ডিগ্রির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসির সমমান সনদ দরকার ছিল।
- চাকরিরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হয়েছে।
- এছাড়া একজন প্রার্থী একাধিক পদে আবেদন করলে সব আবেদন বাতিল হওয়ার শর্ত ছিল।
আবেদনের সময়সীমা ও ফি
অনলাইন আবেদন ১৯ মার্চ ২০২৪ সকাল ১০টায় শুরু হয়েছিল। তবে আবেদন জমার শেষ সময় ছিল ১৮ এপ্রিল ২০২৪ বিকেল ৫টা। যারা ওই সময়ের মধ্যে User ID পেয়েছিলেন তারা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ ২১ এপ্রিল ২০২৪ বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসএমএসের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পেরেছেন। ফলে ২০২৬ সালে এই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।
| পদের গ্রেড | পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য চার্জসহ মোট টাকা |
|---|---|
| ৯ম বা ৮ম গ্রেড | ৬৬৯ টাকা |
| ১০ম গ্রেড | ৫৫৮ টাকা |
ফি ছিল অফেরতযোগ্য। তাই অনলাইন ফরম জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়নি; নির্ধারিত সময়ে ফি না দিলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি। পরীক্ষার ফি টেলিটক প্রি-পেইড নম্বর থেকে দুইটি এসএমএসের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল।
এসএমএসে ফি দেওয়ার পদ্ধতি
- প্রথম এসএমএসে BOGMC User ID লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হয়েছে।
- রিপ্লাইয়ে PIN পাওয়ার পর BOGMC YES PIN লিখে আবার ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হয়েছে।
- পেমেন্ট সফল হলে User ID ও Password-সংবলিত নিশ্চিতকরণ বার্তা পাওয়ার কথা ছিল।
উদাহরণ হিসেবে প্রথম বার্তার ফরম্যাট ছিল BOGMC M27313। দ্বিতীয় বার্তার ফরম্যাট ছিল BOGMC YES 12345678। পুরোনো আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য টেলিটক আবেদন পোর্টাল এবং পেট্রোবাংলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত।
ছবি, স্বাক্ষর ও প্রতিষ্ঠান পছন্দ
আবেদন ফরমে ছবি দিতে হয়েছে ৩০০×৩০০ পিক্সেল, JPG ফরম্যাটে এবং সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইটের মধ্যে। তবে সাদা-কালো ছবি, সাইড ভিউ বা সানগ্লাস পরা ছবি গ্রহণযোগ্য ছিল না। স্বাক্ষরের মাপ নির্ধারিত ছিল ৩০০×৮০ পিক্সেল, JPG ফরম্যাটে এবং সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট।
আবেদনের সময় প্রার্থীকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দক্রম নির্ধারণ করতে হয়েছে। মেধাক্রম এবং আবেদনপত্রে দেওয়া পছন্দের ভিত্তিতে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে নিয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর এই পছন্দক্রম বদলানোর সুযোগ ছিল না।
এই নিয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জায়গা ছিল কর্মস্থল। অধীনস্থ কোনো কোম্পানির কাজ মাঠপর্যায়ে, গ্যাসক্ষেত্রে, খনিতে বা দেশের ভিন্ন এলাকায় হতে পারে। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম দেখে নয়, বরং কাজের ধরন ও সম্ভাব্য কর্মস্থল বিবেচনা করে পছন্দক্রম দেওয়া দরকার ছিল।
পরীক্ষা ও মৌখিকের কাগজপত্র
গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে প্রতি পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ ছয়জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকার নিয়ম ছিল। একই নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল।
মৌখিক পরীক্ষার সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে এবং ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত এক সেট ফটোকপি জমা দিতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে ছিল:
- সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সনদ
- চারিত্রিক সনদ
- নিজ জেলা উল্লেখ করা নাগরিকত্ব সনদ
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ
- মুক্তিযোদ্ধা বা প্রতিবন্ধী কোটার প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়
- O Level, A Level বা বিদেশি ডিগ্রির সমমান সনদ
- সদ্য তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- Applicant’s Copy এবং প্রবেশপত্র
- চাকরিরত প্রার্থীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র
মেধার ভিত্তিতে প্রতি পদের জন্য ১:২ অনুপাতে প্যানেল বা অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণের কথা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা। লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিএ বা ডিএ দেওয়া হয়নি।
সাধারণ ভুল ও সময় বাঁচানোর কৌশল
এই ধরনের নিয়োগে আবেদনকারীরা সাধারণত পদসংখ্যা দেখে দ্রুত ফরম পূরণ করেন। কিন্তু পেট্রোবাংলার বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠান পছন্দ, ডিসিপ্লিন, ছবি-স্বাক্ষরের মাপ এবং ফি জমার সময় আলাদা করে যাচাই করতে হয়েছে। ফলে একটি ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ ফিল্ড পুরো আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।
- প্রথমে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ফলের শ্রেণি মিলিয়ে নিন।
- প্রকৌশল ও কারিগরি পদে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমার বিষয়টি হুবহু মিলিয়ে দেখুন।
- ছবি ও স্বাক্ষর আগে থেকেই নির্ধারিত পিক্সেল ও ফাইল সাইজে তৈরি রাখুন।
- আবেদন শেষে Applicant’s Copy ডাউনলোড বা প্রিন্ট করে নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।
- এসএমএসে ফি দেওয়ার পর পেমেন্ট নিশ্চিতকরণ বার্তা না আসা পর্যন্ত আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেবেন না।
- মোবাইল নম্বর সচল রাখুন, কারণ পরীক্ষা ও প্রবেশপত্রের তথ্য এসএমএসে পাঠানোর কথা ছিল।
নিয়োগের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন
পেট্রোবাংলা বা এর কোনো অধীনস্থ কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার নামে ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা চাওয়া হলে সতর্ক থাকুন। তাই আবেদন, পরীক্ষা, প্রবেশপত্র ও ফলাফলের তথ্য কেবল অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত টেলিটক পোর্টাল থেকে যাচাই করুন। সুপারিশ বা তদবির নিয়োগে সহায়ক নয়; বরং বিজ্ঞপ্তিতে এটিকে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইন আবেদন নিয়ে সহায়তার জন্য পুরোনো বিজ্ঞপ্তিতে ০১৯২০৪০০০৪৫, ০১৫৭০৫১৮৬১৫ এবং ০১৭১৭০০১৩১২ নম্বর দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও টেলিটক নম্বর থেকে ১২১ এবং [email protected] ই-মেইলের কথাও উল্লেখ ছিল। ২০২৬ সালে যোগাযোগের তথ্য ব্যবহার করার আগে পেট্রোবাংলার বর্তমান নোটিশে তা বহাল আছে কি না যাচাই করা জরুরি।
প্রশ্নোত্তর
পেট্রোবাংলা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ কি প্রকাশিত হয়েছে?
দেওয়া তথ্যটি ২০২৪ সালের বিজ্ঞপ্তি। তাই ২০২৬ সালের নতুন বিজ্ঞপ্তি হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে না। নতুন নিয়োগের জন্য পেট্রোবাংলার অফিসিয়াল নোটিশ যাচাই করুন।
পেট্রোবাংলার ৭৫৩ পদে এখন আবেদন করা যাবে?
না। ওই বিজ্ঞপ্তির আবেদন শুরু হয়েছিল ১৯ মার্চ ২০২৪ এবং শেষ হয়েছিল ১৮ এপ্রিল ২০২৪। ফলে পুরোনো ৭৫৩ পদের জন্য এখন নতুন আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
Petrobangla Job Circular-এ কত টাকা ফি ছিল?
৯ম বা ৮ম গ্রেডের জন্য মোট ৬৬৯ টাকা এবং ১০ম গ্রেডের জন্য ৫৫৮ টাকা ফি নির্ধারিত ছিল। এই টাকা টেলিটক প্রি-পেইড নম্বর দিয়ে জমা দিতে হয়েছে।
একজন প্রার্থী কি একাধিক পদে আবেদন করতে পারতেন?
না। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কোনো প্রার্থী একাধিক পদের জন্য আবেদন করলে তার সব আবেদন বাতিল হবে।
ডিপ্লোমা প্রার্থীরা কি প্রকৌশল পদে আবেদন করতে পেরেছেন?
কিছু প্রকৌশল পদে চার বছর মেয়াদি সংশ্লিষ্ট ডিপ্লোমা এবং সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। তবে পদভেদে শর্ত আলাদা ছিল।
পেট্রোবাংলার চাকরিতে বয়সসীমা কত ছিল?
সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ১ মার্চ ২০২৪ তারিখে ২১ থেকে ৩০ বছর হতে হয়েছে। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সীমা ছিল ২১ থেকে ৩২ বছর।
আবেদনের পর প্রতিষ্ঠান পছন্দ বদলানো যেত কি?
না। অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠান পছন্দের ক্রম পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। তাই কাজের ধরন ও সম্ভাব্য কর্মস্থল দেখে পছন্দক্রম নির্ধারণ করতে হয়েছে।
পেট্রোবাংলার নতুন নিয়োগের খবর কোথায় পাব?
পেট্রোবাংলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত টেলিটক আবেদন পোর্টাল নিয়মিত দেখুন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বদলে মূল বিজ্ঞপ্তির স্মারক ও তারিখ মিলিয়ে নিন।
২০২৬ সালে যাচাইয়ের শেষ ধাপ
দেওয়া নথির ভিত্তিতে এটি একটি ২০২৪ সালের কেন্দ্রীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ২০২৬ সালের নতুন নিয়োগ নয়। বিজ্ঞপ্তিতে ৭৫৩টি পদ থাকলেও আবেদন, ফি জমা এবং নির্ধারিত সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই বর্তমান চাকরির সুযোগ জানতে পেট্রোবাংলার অফিসিয়াল নোটিশ, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের অনুমোদিত পোর্টাল মিলিয়ে দেখুন।
আবেদন বা কোনো আর্থিক লেনদেনের আগে বিজ্ঞপ্তির প্রকাশের তারিখ, আবেদনসীমা, পদের সংখ্যা এবং অফিসিয়াল ওয়েব ঠিকানা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।