লিওনেল মেসির এক গোল ও দুই সহায়তায় বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ। গোল করে এবং সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করিয়ে বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

মেসিকে বিদায় জানাতে ম্যাচের শুরু থেকেই স্টেডিয়ামে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। বিপুলসংখ্যক আর্জেন্টাইন সমর্থকের উপস্থিতিতে প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি আক্রমণ চালায়। তবে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। এই সময়ে আর্জেন্টিনার বড় সুযোগগুলোর একটি পেয়েছিলেন মেসি।
ম্যাচের ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাস খুঁজে নেয় মেসিকে। বাঁ পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিলেও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তিনি। তার নেওয়া শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে বেনিনের বক্সে মোট ছয়বার বল স্পর্শ করেন মেসি এবং চারটি শট নেন। বিরতিতে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত গানের দল ‘লোস ফুন্দামেনতালিস্তাস’ স্টেডিয়ামে সংগীত পরিবেশন করে।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে পাওয়া বল ভলিতে জালে পাঠান নিকোলাস ওতামেন্দি। বক্সের ভেতর পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ ভলিতে গোল করেন ৩৮ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাক। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
গোলের দুই মিনিট পরই ওতামেন্দিকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান তিনি। সতীর্থরাও হাত মিলিয়ে তাকে বিদায় জানান। মেসির পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটিও ছিল ওতামেন্দির বিদায়ী ম্যাচ।
এরপর আবারও মেসির ছোঁয়ায় গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পান নিকো পাজ। বক্সে ঘুরে বাঁকানো শটে বল বাম কোণ দিয়ে জালে পাঠান তিনি। বেনিনের গোলরক্ষকের শটটি ঠেকানোর সুযোগ ছিল না। ফলে বিদায়ী ম্যাচে দ্বিতীয় গোলেও সরাসরি অবদান রাখেন মেসি।
নিজের গোলের জন্যও বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। ৬৮ মিনিটে বেনিনের বক্সে অগাস্টিন জিয়া ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১ মিনিটে ডান দিকের ওপরের কোণ লক্ষ্য করে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। গোলরক্ষক দিক বুঝতে পারলেও বলের নাগাল পাননি।
এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোলসংখ্যা ১২৬-এ পৌঁছেছে। বিদায়ী ম্যাচে তার নামের পাশে থাকল এক গোল ও দুই সহায়তা। গোলের পর সতীর্থরা তাকে ঘিরে উদ্যাপন করেন। মেসিকে বৃত্তের মাঝে রেখে চলে আনন্দ-উল্লাস।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ওতামেন্দির গোলে স্বস্তি ফেরে আর্জেন্টাইন শিবিরে। এরপর নিকো পাজের গোল এবং মেসির পেনাল্টি গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ শেষ করেন মেসি।