সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭

আপডেট পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন 🥳 ফলো করুন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭ অনুযায়ী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লটারিতে। অন্যদিকে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনের ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষা হবে। পাশাপাশি আবেদন, ফি গ্রহণ, ফল প্রকাশ ও আসনের তথ্য অনলাইনে পরিচালিত হবে। নীতিমালাটি ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে।

অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বয়সের প্রমাণ, পছন্দক্রম, শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষার নম্বর, কোটা এবং অনলাইন আবেদনের নিয়ম আগে থেকেই পরিষ্কারভাবে জানা। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তির মূল উৎস হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত নীতিমালাটি যাচাই করা যাবে।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ:

  • প্রথম শ্রেণিতে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লটারি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনের লিখিত পরীক্ষা হবে।
  • প্রথম শ্রেণির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা।
  • প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জন নির্ধারিত।
  • ঢাকা মহানগরীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

নীতিমালার আওতায় কোন শ্রেণি

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের এন্ট্রি শ্রেণিতে এবং আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। অর্থাৎ প্রতিটি বিদ্যালয়ের নির্ধারিত এন্ট্রি শ্রেণি ছাড়াও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আসন খালি থাকলে ভর্তি প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হবে।

শিক্ষাবর্ষ ও শ্রেণির আসন

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি প্রতি শ্রেণি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫৫ জন। তবে বদলি, বিশেষ সংরক্ষণ বা নীতিমালায় নির্দিষ্ট অতিরিক্ত আসনের ক্ষেত্রে আলাদা বিধান প্রযোজ্য হবে।

বয়স নির্ধারণের নিয়ম

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুসারে শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ ধরে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর হতে হবে। একই ভিত্তিতে অন্যান্য শ্রেণির বয়সও গণনা করা হবে।

বয়স যাচাইয়ের জন্য আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। এছাড়াও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ভর্তি পদ্ধতি

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে না। বরং সব আবেদনকারীর মধ্য থেকে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে লিখিত পরীক্ষার ফল ও মেধাক্রমের ভিত্তিতে।

প্রথম শ্রেণির ডিজিটাল লটারি

প্রথম শ্রেণিতে আবেদনকারী একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে পারবে। কোনো ডাবল শিফট বিদ্যালয়ের দুই শিফটই পছন্দ করলে তা দুইটি বিদ্যালয় পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে। তবে একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে শিক্ষার্থীর সব আবেদন বাতিল হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকার সঙ্গে শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমান তালিকা তৈরি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচিত কেউ ভর্তি না হলে অপেক্ষমান তালিকা থেকে ক্রমানুসারে ভর্তি নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই হবে। একই সঙ্গে নির্বাচিত তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমান তালিকা রাখতে হবে। বিদ্যালয় বা ভর্তি কমিটির নির্ধারিত সময়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমান তালিকা কার্যকর হবে।

শ্রেণিপূর্ণমানবাংলাইংরেজিগণিতসময়
দ্বিতীয়–পঞ্চম৫০১৫১৫২০১ ঘণ্টা
ষষ্ঠ–নবম১০০৩০৩০৪০২ ঘণ্টা

প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট শ্রেণির জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যবই থেকে তৈরি করতে হবে। তাই উচ্চ শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের পাঠ্যবইভিত্তিক প্রস্তুতি সবচেয়ে কার্যকর হবে।

Read More:  বার্ষিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জরিপ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

আবেদন, ফি ও ক্লাস্টার নির্বাচন

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আবেদন, আবেদন ফি গ্রহণ, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও ফল প্রকাশ অনলাইনে করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তারিখ ও সময় অনুযায়ী নির্ধারিত সফটওয়্যারে আবেদন করতে হবে।

আবেদন ফি কত

  • প্রথম শ্রেণির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা।
  • দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা।
  • সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

শুধু আবেদন ফি জানলেই হবে না। বরং আবেদন করার সময় জন্ম নিবন্ধন, কোটা-সংক্রান্ত প্রমাণপত্র এবং পছন্দক্রমের তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। ভুল তথ্যের কারণে নির্বাচিত হলেও ভর্তি নিশ্চিত নাও হতে পারে।

ক্লাস্টারভিত্তিক আবেদন

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করে ভর্তি কমিটি বিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন ক্লাস্টারে ভাগ করতে পারবে। তবে একজন শিক্ষার্থী প্রতি ক্লাস্টারে মাত্র একটি বিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে।

ধরা যাক, একটি ক্লাস্টারে তিনটি সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে একই ক্লাস্টারের দুই বা তিনটি বিদ্যালয়ে আবেদন করলে পছন্দের নিয়ম লঙ্ঘিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার ও শূন্য আসনের তথ্য বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

ভর্তি কমিটি কীভাবে কাজ করবে

ঢাকা মহানগরী, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি থাকবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কমিটি অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। এদিকে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময় শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে যুক্তিসঙ্গত সময়ে সভা করে নির্ধারণ করা হবে।

ঢাকা মহানগরী কমিটি

ঢাকা মহানগরী ভর্তি কমিটির সভাপতি হবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কমিটিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, আঞ্চলিক উপপরিচালক, বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং ঢাকা মহানগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকারা থাকবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা ও উপজেলা কমিটি

জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং জেলা সদরের জ্যেষ্ঠতম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকা সদস্য-সচিব হবেন। কমিটিতে সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থাকবেন।

স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি হবেন। তাঁর সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকারা সদস্য থাকবেন। এ কমিটিতে উপজেলা সদরের জ্যেষ্ঠতম প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকা সদস্য-সচিব হবেন।

শূন্য আসন, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ

প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্ধারিত সফটওয়্যারে শ্রেণিভিত্তিক শূন্য আসন এবং অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। এরপর ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আসন পূরণের বিস্তারিত তথ্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী ঢাকা মহানগরী কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

পরীক্ষার পরিবেশ

পরীক্ষার হলে সুষ্ঠু আসন বিন্যাস, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কমিটিকে কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করতে হবে। সম্ভব হলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরীক্ষা নিতে হবে। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে কালো কালির কলম ব্যবহার করতে হবে। যানজট ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া যাবে।

উত্তরপত্র মূল্যায়ন

পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র রোল নম্বরের ধারাবাহিকতায় না রেখে শ্রেণিভিত্তিক সর্বোচ্চ ১০০টি করে বান্ডেল করতে হবে। অবশিষ্ট উত্তরপত্র আলাদা বান্ডেলে রাখতে হবে। পরে সব বান্ডেল বিবরণীসহ সিলগালা করে মূলকেন্দ্রে জমা দিতে হবে।

উত্তরপত্রে কোড নম্বর দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে এই কাজে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। এদিকে কোড স্লিপ আলাদা করে বিদ্যালয়, শিফট ও শ্রেণিভিত্তিক সিলগালা অবস্থায় কমিটির হেফাজতে রাখতে হবে। ডিকোডিংয়ের সময় ছাড়া কোড স্লিপ খোলা যাবে না।

এক বিদ্যালয় বা ক্লাস্টারের উত্তরপত্র অন্য বিদ্যালয় বা ক্লাস্টারের শিক্ষক মূল্যায়ন করবেন। এরপর নিরীক্ষক কোড নম্বর অনুসারে নম্বর ফর্দ তৈরি করবেন। কোনো উপরি লিখন বা ঘষামাজা করা যাবে না। পরীক্ষকরা যাচাই শেষে উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ কমিটির কাছে জমা দেবেন।

Read More:  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি

মেধা ও অপেক্ষমান তালিকা

মেধাতালিকা ও অপেক্ষমান তালিকা একই সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক এবং বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যদি ওয়েবসাইট থাকে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডেও তালিকা টাঙাতে হবে। তালিকার বাইরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

ভর্তি কমিটির অনুমোদন ছাড়া বছরের অন্য সময়ে প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকা একক সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবেন না। এ নিয়মের ব্যত্যয় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া ভর্তি পরীক্ষার কাগজপত্র কোড নম্বর দেওয়া থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত কমপক্ষে এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

সংরক্ষিত আসন ও বিশেষ সুবিধা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭-এ বিভিন্ন শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর জন্য আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোটা দাবি করা শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি দেখাতে হবে।

ক্যাটাগরিসংরক্ষিত আসন বা সুবিধা
স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী৬ষ্ঠ শ্রেণির মোট আসনের ১০ শতাংশ
ঢাকা মহানগরীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থী৪০ শতাংশ
মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা৫ শতাংশ
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী২ শতাংশ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানমোট ২ শতাংশ
সহোদর বা সহোদরা৩ শতাংশ
যমজ ভাই বা বোন২ শতাংশ

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনকারী না পাওয়া গেলে প্রথম ৩ শতাংশ সহোদর বা সহোদরার জন্য এবং অবশিষ্ট ২ শতাংশ সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করতে হবে। একইভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান, সহোদর এবং যমজের সংরক্ষিত আসনেও আবেদনকারী না থাকলে সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে আসন পূরণ করতে হবে। কোনো আসন খালি রাখা যাবে না।

সহোদর ও যমজের সুবিধা কোনো দম্পতির মোট তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। তবে সহোদর আবেদনকারী না থাকলে সহোদরের জন্য নির্ধারিত আসন যমজ ভাই বা বোনের জন্য উন্মুক্ত হবে। একইভাবে যমজ আবেদনকারী না থাকলে তাদের আসন সহোদর বা সহোদরার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং তফসিল-কভুক্ত অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। ভগ্নাংশ হলে পরবর্তী পূর্ণ সংখ্যা গণনা করতে হবে। এ সুবিধার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রত্যয়নপত্র এবং ন্যূনতম যোগ্যতা প্রয়োজন।

তফসিল-কভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ, ব্যানবেইস, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, এনসিটিবি, নায়েম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ডিআইএ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, বিএনসিইউ, নয়টি শিক্ষা বোর্ড, অবসর সুবিধা বোর্ড, কল্যাণ ট্রাস্ট, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং নেকটার।

বদলি, কর্মচারী ও বিশেষ পরিস্থিতির ভর্তি

সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী বদলি হলে সন্তানের ভর্তির জন্য বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১২ মাসের মধ্যে প্রমাণকসহ ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। মহানগর, সিটি করপোরেশন বা বিভাগীয় শহরে নতুন কর্মস্থল আগের কর্মস্থল থেকে গুগল ম্যাপ অনুযায়ী ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে কর্মস্থলের নিকটতম বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকবে।

অন্যদিকে জেলা, উপজেলা বা থানার ক্ষেত্রে কর্মস্থলের নিকটতম সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া যাবে। বদলিজনিত কারণে প্রতি শ্রেণি শাখার মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার পাবে। কর্মচারী আগের কর্মস্থলে ফিরে গেলে সন্তান পূর্বতন বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি হতে পারবে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মচারীর ভর্তি-উপযুক্ত সন্তানের সংখ্যার সমান অতিরিক্ত আসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত থাকবে। বালক বিদ্যালয়ের কর্মীর সন্তান বালিকা হলে নিকটতম সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে এবং বালিকা বিদ্যালয়ের কর্মীর সন্তান বালক হলে নিকটতম বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখা হবে। তবে সহশিক্ষা বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কর্মরত বিদ্যালয়েই আসন সংরক্ষণ করা হবে।

কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে তাঁর সন্তান স্থায়ীভাবে বসবাস করবে এমন এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। এছাড়া পিতা-মাতাহীন কোনো শিক্ষার্থী বাসস্থান পরিবর্তন করলে এবং সরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর পিতা বা মাতার মৃত্যুজনিত কারণে আবাসস্থল বদল হলে পরিবর্তিত এলাকার সরকারি বিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে।

Read More:  অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা শুরু ২৫ নভেম্বর, সময়সূচি প্রকাশ

একই শ্রেণিতে দুই বিদ্যালয়ের সম্মতিতে পারস্পরিক বদলিভিত্তিক ভর্তি করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। এরপর কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

অভিভাবকদের জন্য প্রস্তুতির তালিকা

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭ অনুসরণ করতে গিয়ে সাধারণ ভুল এড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনলাইন আবেদন করার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিলে বাতিলের ঝুঁকি কমে।

  1. শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের নাম, জন্মতারিখ ও অভিভাবকের তথ্য যাচাই করুন।
  2. প্রথম শ্রেণিতে সর্বোচ্চ পাঁচটি পছন্দ দেওয়ার আগে বিদ্যালয়ের শিফট ও ক্লাস্টার বিবেচনা করুন।
  3. একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদন করবেন না।
  4. কোটা দাবি করলে সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে রাখুন এবং ভর্তি সময় মূল কপি দেখানোর প্রস্তুতি নিন।
  5. দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার্থীরা শ্রেণির পাঠ্যবইভিত্তিক বাংলা, ইংরেজি ও গণিত অনুশীলন করুন।
  6. লিখিত পরীক্ষায় কালো কালির কলম ব্যবহারের বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করুন।
  7. নির্বাচিত তালিকা বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন করুন।

যে ভুলগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ

  • ভুল জন্মতারিখ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ জন্ম নিবন্ধন তথ্য দেওয়া।
  • একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদন করা।
  • কোটা দাবি করে মূল প্রমাণপত্র দেখাতে না পারা।
  • শূন্য আসন বা ক্লাস্টারের তথ্য না দেখে পছন্দক্রম তৈরি করা।
  • মেধাতালিকায় নাম আসার পর নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হওয়া।

এছাড়া প্রথম শ্রেণির লটারির সফটওয়্যার ব্যবহারের আগে নির্বাচিত কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার সরকার-স্বীকৃত অন্য একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করাতে হবে এবং প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। এই বিধান লটারির কারিগরি স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।

ভর্তি প্রক্রিয়ার ব্যয় ও দায়িত্ব

ডিজিটাল লটারিতে আবেদন ফি থেকে কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিমূল্য বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ কীভাবে ভাগ হবে, তা নির্ধারণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ উপকমিটি গঠন করবে।

লিখিত পরীক্ষায় বিদ্যালয় প্রাপ্ত আবেদন ফি থেকে কারিগরি প্রতিষ্ঠানের চুক্তিমূল্য বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থের ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহার হবে। এর মধ্যে বিজ্ঞপ্তি, উত্তরপত্র, যাতায়াত, আসন বিন্যাস, পরীক্ষা গ্রহণ, আপ্যায়ন, সম্মানী ও অন্যান্য ব্যয় থাকবে। তাই বিদ্যালয়কে ভাউচার সংরক্ষণ করতে হবে।

অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ভর্তি কমিটির কাছে জমা থাকবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন ও মুদ্রণ, কোড নম্বর, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ডিকোডিং, ফল প্রকাশ, সভা, যাতায়াত, আপ্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট সম্মানীর ব্যয় এই অর্থ থেকে নির্বাহ করা হবে।

নীতিমালাটি পরবর্তীতে হালনাগাদ, পরিবর্তন বা পরিমার্জন না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে প্রয়োগের সময় কোনো অস্পষ্টতা বা সমস্যা দেখা দিলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

প্রশ্নোত্তর: ভর্তি নিয়ে জরুরি তথ্য

প্রথম শ্রেণিতে কি লিখিত পরীক্ষা হবে?

না। প্রথম শ্রেণিতে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। আবেদনকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে পারবে।

দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান কত?

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০। বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার সময় কত?

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ এবং সময় দুই ঘণ্টা। বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে।

প্রথম শ্রেণির আবেদন ফি কত?

প্রথম শ্রেণির অনলাইন আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা। তবে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি আলাদাভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদন করলে কী হবে?

একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে শিক্ষার্থীর সব আবেদন বাতিল হবে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে বিদ্যালয়, শিফট ও পছন্দক্রম ভালোভাবে যাচাই করা দরকার।

নির্বাচিত শিক্ষার্থী সময়মতো ভর্তি না হলে কী হবে?

নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হলে শূন্য আসন অপেক্ষমান তালিকা থেকে ক্রমানুসারে পূরণ করা হবে। একই কারণে নির্বাচিত তালিকার বাইরে কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে না।

বয়স প্রমাণে কোন কাগজ লাগবে?

আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বয়স সুবিধার জন্য যথাযথ প্রত্যয়ন প্রয়োজন।

সরকারি চাকরিজীবীর বদলির পর সন্তানকে কোথায় ভর্তি করা যাবে?

বদলির আদেশের ১২ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। নতুন কর্মস্থলের দূরত্ব ও অবস্থান অনুযায়ী নিকটতম সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকতে পারে।

শেষ সিদ্ধান্তের আগে যা যাচাই করবেন

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭-এ লটারি, লিখিত পরীক্ষা, অনলাইন আবেদন, কোটা, বদলি এবং অপেক্ষমান তালিকার নিয়ম একসঙ্গে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবেদন শুরুর তারিখ, পরীক্ষার সময়সূচি, বিদ্যালয়ভিত্তিক শূন্য আসন এবং সফটওয়্যারের নির্দেশনা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ হবে।

তাই অভিভাবকদের উচিত জন্ম নিবন্ধন ও কোটা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা, পছন্দের বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার ও শূন্য আসন যাচাই করা এবং আবেদন বা ফলাফলের চূড়ান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে নেওয়া।

Rakib Hasan

আমি একজন লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি খবর, চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল ও সহজবোধ্য কনটেন্ট প্রকাশ করেন। তাঁর লক্ষ্য পাঠকদের সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য প্রদান করা।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment