অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপ শুরু ৬ সেপ্টেম্বর

অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপ শুরু ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। তাই নিয়মিত, অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন শেষ হবে। অন্যদিকে ফি জমা দেওয়ার সময় ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন ফরম পূরণ হবে ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর সিলেবাস ও সংশোধিত রেগুলেশন অনুসারে। তবে বিষয়কোড ভুল নির্বাচন করলে বিশ্ববিদ্যালয় দায় নেবে না। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও সিলেবাস দেখে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

  • আবেদন ফরম পূরণ: ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১:৫৯ পর্যন্ত
  • ফি জমা: ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ৪টা পর্যন্ত
  • আবেদন ফরমের ওয়েবসাইট: ems.nu.ac.bd/student-login

সময়সূচি এক নজরে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থী ও কলেজের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ করবেন। এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডাটা যাচাই ও নিশ্চয়ন সম্পন্ন করবে।

কার্যক্রমসময়সীমা
অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১:৫৯ পর্যন্ত
ফি জমা২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ৪টা পর্যন্ত
কাগজপত্র সংরক্ষণফল প্রকাশের তারিখ থেকে ৪ মাস

শেষ দিনের ওপর নির্ভর না করাই নিরাপদ। বিশেষ করে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা প্রথম সপ্তাহেই ফরম পূরণ করলে ভুল সংশোধন ও কলেজে জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় পাবেন। ফলে নির্ধারিত সময় শেষ হলে অনলাইন কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও প্রস্তুতির সুযোগ থাকবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নিয়মিত, অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। তবে প্রতিটি শ্রেণির জন্য শিক্ষাবর্ষ, আগের পরীক্ষার ফল এবং অনুত্তীর্ণ কোর্সের আলাদা শর্ত রয়েছে। তাই সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকায় নাম থাকা বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

নিয়মিত পরীক্ষার্থী

২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষায় প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় বর্ষে উঠেছেন এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করেছেন তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া তাদের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে।

অনিয়মিত পরীক্ষার্থী

২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের অবশ্যই আগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় বর্ষে উঠতে হবে।

যারা ২০২১, ২০২২, ২০২৩ বা ২০২৪ সালের তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নেননি অথবা অংশ নিয়েও প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ হননি তারা অনুত্তীর্ণ কোর্সে পরীক্ষা দিতে পারবেন। সুতরাং আবেদন করার সময় কেবল প্রযোজ্য কোর্স নির্বাচন করা উচিত।

গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থী

২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ পাবেন যদি তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ বা প্রমোটেড হয়ে থাকেন। কোনো কোর্সে F গ্রেড বা অনুপস্থিতি থাকলে সেই কোর্সে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আরো পড়ুন:  অনার্স ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ বর্ষের বাংলা বিভাগের বইয়ের তালিকা

২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় C+, C বা D গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুইটি কোর্সে গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারবেন। তবে ফলাফল যাই হোক না কেন গ্রেড A- এর বেশি হবে না। গ্রেড উন্নয়নে ব্যর্থ হলে বা পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে আগের গ্রেড বহাল থাকবে।

২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের F গ্রেড

২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের এক বা একাধিক কোর্সে F গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীরা সর্বসাকুল্যে ৫,০০০ টাকা ফি দিয়ে কেবল ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় ফরম পূরণ করতে পারবেন। তাছাড়া তাদের রেজিস্ট্রেশন নবায়নের প্রয়োজন নেই।

তবে ফরম পূরণে ব্যর্থ হলে বা পরীক্ষায় অংশ না নিলে কিংবা অংশ নিয়ে আবারও অকৃতকার্য হলে ভবিষ্যতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে আবেদন করা যাবে না। তাই এই শর্তটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার।

ফরম পূরণের ফি কত?

ফি নির্ভর করবে শিক্ষার্থীর কোর্সের ধরন, পরীক্ষার্থী শ্রেণি এবং কেন্দ্রসংক্রান্ত খাতের ওপর। তত্ত্বীয় পূর্ণ কোর্সের জন্য ৩০০ টাকা এবং অর্ধ কোর্সের জন্য ২৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া ব্যবহারিক প্রতি পত্র বা কোর্সের ফি ৩০০ টাকা।

ফি-এর ধরনপরিমাণ
তত্ত্বীয় পূর্ণ কোর্স৩০০ টাকা
তত্ত্বীয় অর্ধ কোর্স২৫০ টাকা
ব্যবহারিক প্রতি পত্র বা কোর্স৩০০ টাকা
ইনকোর্স পরীক্ষা ফি৪৫০ টাকা
কেন্দ্র ফি, তত্ত্বীয়৪৫০ টাকা
কেন্দ্র ফি, ব্যবহারিক প্রতি কোর্স১৭৫ টাকা
অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন কোর্সের অতিরিক্ত ফি৬০০ টাকা
২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের F গ্রেড পরীক্ষার্থী৫,০০০ টাকা
Conditional Promoted পরীক্ষার্থীর অতিরিক্ত ফি১,৫০০ টাকা

ইনকোর্স ফি মোট ৪৫০ টাকা। এর মধ্যে ১৫০ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৩০০ টাকা কলেজ ফান্ডে জমা হবে। একইভাবে তত্ত্বীয় কেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকার মধ্যে কলেজের অংশ ১৫০ টাকা এবং কেন্দ্রের অংশ ৩০০ টাকা।

অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে

শিক্ষার্থী নিজে অথবা কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের EMS Student Login পোর্টালে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। এরপর ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট কপি নির্ধারিত ফিসহ নিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কাছে জমা দিতে হবে।

  1. প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের Student Login পেজে প্রবেশ করুন।
  2. এরপর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করুন।
  3. সিলেবাসে থাকা বিষয়কোড ও ব্যবহারিক কোর্স সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
  4. তারপর আবেদন ফরম ডাউনলোড করে পরিষ্কারভাবে প্রিন্ট করুন।
  5. নির্ধারিত ফি ও প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দিন।
  6. সবশেষে বিবরণী ফরমে বিষয়কোড ঠিকভাবে এন্ট্রি হয়েছে কি না দেখে স্বাক্ষর করুন।

আবেদন ফরমে ভুল থাকলে কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফরম বাতিল করে নতুন ফরম ডাউনলোড করতে হবে। একই কারণে রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখিত অনার্স বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে আবেদন করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

প্রমোশনের জন্য কী লাগবে?

তৃতীয় বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষে প্রমোশনের জন্য সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি তত্ত্বীয় কোর্সের অন্তত ৫০ শতাংশে D বা তার বেশি গ্রেড এবং ব্যবহারিক কোর্সে উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। একটি কোর্সে অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফলাফল Conditional Promoted হতে পারে।

  • সব বিষয়ে অংশ নিয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ তত্ত্বীয় কোর্সে D বা বেশি গ্রেড পেলে প্রমোশনের শর্ত পূরণ হবে।
  • তবে একটি কোর্সে অনুপস্থিত থেকে অন্য সব কোর্সে D বা বেশি গ্রেড পেলে ফলাফল Conditional Promoted হতে পারে।
  • অন্যদিকে একাধিক কোর্সে অনুপস্থিত হলে ফলাফল Not Promoted হবে।
  • এছাড়াও একটি কোর্সে অনুপস্থিতি এবং অন্য কোর্সে F গ্রেড থাকলেও Promotion হবে না।
  • তবে Promoted বা Not Promoted শিক্ষার্থী পরবর্তী বছরে অনুপস্থিত ও F গ্রেডের কোর্সে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
আরো পড়ুন:  ঢাকা বোর্ডে ফেল থেকে পাস ৩৩৭, নতুন জিপিএ-৫ কত জনের

Promoted বা Not Promoted শিক্ষার্থীরা C+, C ও D গ্রেড পাওয়া সর্বোচ্চ দুইটি কোর্সে গ্রেড উন্নয়ন দিতে পারবেন। তবে ফলাফল A- এর বেশি হবে না। F গ্রেড পাওয়া কোর্স রেজিস্ট্রেশন মেয়াদের শুরু থেকে সাত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে D বা তার বেশি গ্রেডে উন্নীত করতে হবে।

F গ্রেড উন্নীত হয়ে গেলে সেই কোর্সে আবার গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ থাকবে না। একইভাবে ইনকোর্স ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় গ্রেড উন্নয়নের সুযোগও নেই।

ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দিতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের Service মেনুতে Sonali Seba নির্বাচন করে College Code দিয়ে পে-স্লিপ ডাউনলোড করবে। এরপর পে-স্লিপে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় টাকা জমা দিতে হবে।

পে-স্লিপে সংশ্লিষ্ট খাতের সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর এবং মোট টাকার পরিমাণ থাকবে। তাই প্রিন্ট কপি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর রসিদ সংগ্রহ করা উচিত। তবে সোনালী সেবার লিংক কেবল বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সক্রিয় থাকবে।

নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে পে-স্লিপ ডাউনলোড করা যাবে না। সোনালী সেবা ছাড়া অন্য কোনো প্রচলিত ব্যাংক ফরমে টাকা জমা দিলে পরবর্তী জটিলতার দায় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব

কলেজকে সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পূরণ করা আবেদন ফরম মিলিয়ে দেখতে হবে। এরপর College Login ব্যবহার করে আবেদন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যক্ষকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।

  • প্রথমে College Profile বা আইসিটি দপ্তর থেকে User ID ও Password সংগ্রহ করতে হবে।
  • যোগ্য শিক্ষার্থীর নাম সম্ভাব্য তালিকায় না থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট শাখা বা আইসিটি দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।
  • নিশ্চয়নের পর অনলাইনে পরীক্ষার্থীদের বিবরণী প্রিন্ট করতে হবে।
  • প্রিন্ট কপিতে প্রথমে বিভাগীয় প্রধান এবং পরে অধ্যক্ষ স্বাক্ষর করবেন।
  • এছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর আবেদন বাদ পড়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে।
  • একজনের পরিবর্তে অন্য শিক্ষার্থীর নিশ্চয়ন করা যাবে না।

ডাটা এন্ট্রির নির্ধারিত সময় শেষ হলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে। নিশ্চয়নের পর ফরম পূরণসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না। তাই কলেজ কর্তৃপক্ষের জন্য প্রথম দিন থেকেই যাচাই শুরু করা সময় সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পদ্ধতি।

সাধারণ ভুল এড়ানোর উপায়

ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ফরম পূরণের শেষ দিনে কাজ করতে গিয়ে বিষয়কোড বা পরীক্ষার্থী শ্রেণি ভুল নির্বাচন করেন। ফলে এমন ভুলের প্রভাব সরাসরি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ওপর পড়তে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে অন্তত তিনটি তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত।

  • রেজিস্ট্রেশন কার্ডের অনার্স বিষয়
  • সিলেবাসে উল্লেখিত বিষয়কোড
  • আগের পরীক্ষার ফল ও অনুত্তীর্ণ কোর্স
  • ব্যবহারিক কোর্সের তথ্য
  • নিয়মিত, অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন শ্রেণি

শুধু অনলাইন ফরম পূরণ করলেই প্রক্রিয়া শেষ হয় না। এরপর প্রিন্ট কপি বিভাগে জমা দিতে হবে এবং কলেজের বিবরণী ফরমে তথ্য সঠিক আছে কি না দেখে স্বাক্ষর করতে হবে। পাশাপাশি ফি জমার রসিদও সংরক্ষণ করা ভালো।

আরো পড়ুন:  বিকেএসপি স্নাতক পাস কোর্সে ভর্তি আবেদন শুরু, শেষ তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর

বিবরণী ও কাগজপত্র সংরক্ষণ

ফরম পূরণ করা পরীক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক বিবরণীতে পরীক্ষার্থী, বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকতে হবে। মূল কপি সংশ্লিষ্ট কলেজে ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে চার মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। তবে আঞ্চলিক কেন্দ্রে কাগজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

কলেজকে কেন্দ্র ফি থেকে ১৫০ টাকা পরীক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত, বিবরণী প্রিন্ট ও ফটোকপির মতো খরচ অন্তর্ভুক্ত। অবশিষ্ট ৩০০ টাকা পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ফলাফল

ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তাই ব্যবহারিক পরীক্ষার আলাদা সময়সূচি জানতে নিয়মিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখা দরকার। পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফল গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষা পরিচালনা, ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচি ও ফলাফলসংক্রান্ত তথ্য চিঠি বা অন্য কোনো মাধ্যমে পাঠানো হবে না। সুতরাং নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য প্রতিদিন www.nu.ac.bd ও সংশ্লিষ্ট কলেজের নোটিশ অনুসরণ করা উচিত।

সহায়তার ফোন নম্বর

EMS সফটওয়্যারে ফরম পূরণের সময় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন হলে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে ফোন করার আগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কলেজের নাম ও সমস্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রস্তুত রাখলে সময় কম লাগতে পারে।

  • মোঃ মোজাদ্দিরুল ইসলাম (রাজু): ০১৬০৯৬০৫৪৯৪
  • এস এম তানভীর সিদ্দিকি: ০১৩২৬৮০২৪৫৮
  • মোঃ মেহেদী হাসান: ০১৬৭৬২২৭০১৯

যা শিক্ষার্থীদের এখনই করা উচিত

ফরম পূরণের সময়সীমা ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হলেও শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করাই বাস্তবসম্মত। কারণ অনলাইন পোর্টালে চাপ, কলেজের অভ্যন্তরীণ সময়সূচি বা তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় দরকার হতে পারে।

  1. প্রথমে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও আগের ফলাফল হাতে রাখুন।
  2. এরপর সিলেবাস অনুযায়ী বিষয়কোড মিলিয়ে নিন।
  3. নিজের পরীক্ষার্থী শ্রেণি যাচাই করুন।
  4. ফরম পূরণের পর প্রিন্ট কপি বিভাগে জমা দিন।
  5. কলেজের নিশ্চয়ন সম্পন্ন হয়েছে কি না জেনে নিন।
  6. সবশেষে ফি জমার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার আগে রসিদ সংগ্রহ করুন।

প্রশ্নোত্তর

অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণ কবে শুরু?

২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হবে। তাই শিক্ষার্থীরা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়নের শেষ সময় কত?

কলেজ কর্তৃপক্ষকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন করতে হবে। এরপর অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ কোনটি?

সোনালী সেবার পে-স্লিপ অনুযায়ী ফি ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ৪টার মধ্যে সোনালী ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে।

বিষয়কোড ভুল হলে কী করা যাবে?

বিষয়কোড ভুল হলে কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন ফরম বাতিল করে সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন ফরম ডাউনলোড করতে হবে। কারণ ভুল কোডের দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না।

গ্রেড উন্নয়নে কতটি কোর্স নেওয়া যায়?

২০২৪ সালের পরীক্ষায় C+, C বা D গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুইটি কোর্সে গ্রেড উন্নয়ন দিতে পারবেন। তবে ফলাফল A- এর বেশি হবে না।

বিবরণী ফরম কোথায় জমা থাকবে?

বিবরণী ফরম ও অন্যান্য কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে ফল প্রকাশের তারিখ থেকে চার মাস সংরক্ষণ করতে হবে। সুতরাং আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ কোথায় জানা যাবে?

তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি কলেজের নোটিশও নিয়মিত দেখা উচিত।

শেষ মুহূর্তের আগে প্রস্তুতি নিন

অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক বিষয়কোড, নির্ধারিত সময় এবং কলেজের নিশ্চয়ন। তাই ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন শেষ করে ২৮ সেপ্টেম্বর কলেজের ডাটা এন্ট্রি যাচাই করুন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার আগে সোনালী ব্যাংকে ফি জমা দিয়ে রসিদ সংরক্ষণ করুন।

পরীক্ষার ব্যবহারিক সময়সূচি, ফলাফল ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখুন। সবশেষে কলেজে জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য একবার ধীরে মিলিয়ে নেওয়াই সময় বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Rakib Hasan

আমি একজন লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি খবর, চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল ও সহজবোধ্য কনটেন্ট প্রকাশ করেন। তাঁর লক্ষ্য পাঠকদের সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য প্রদান করা।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment