ঢাকার সরকারি কলেজের তালিকা ২০২৭ খুঁজছেন? তাহলে ঢাকা জেলা ও মহানগরের ২৬টি সরকারি কলেজের নাম, প্রতিষ্ঠার বছর, অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা একসঙ্গে দেখে প্রাথমিক পছন্দের তালিকা তৈরি করতে পারবেন। তবে ২০২৭ সালের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, আসনসংখ্যা ও বিষয়ভিত্তিক শর্ত জানতে প্রতিটি কলেজের সর্বশেষ অফিসিয়াল নোটিশ যাচাই করা জরুরি।
তালিকায় ঢাকার পুরোনো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে তুলনামূলক নতুন সরকারি কলেজও রয়েছে। যেমন, ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪১ সালে, আর দুয়ারীপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কলেজের ইতিহাসের পাশাপাশি অবস্থান, যাতায়াত এবং পছন্দের বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
- ঢাকা জেলার তালিকায় মোট ২৬টি সরকারি কলেজ রয়েছে।
- এছাড়া প্রতিষ্ঠার সময়কাল ১৮৪১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ঢাকা শহরের পাশাপাশি সাভার, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত।
- কিছু ওয়েবসাইটের পাশে ২০২৪ বা ২০২৫ সালের ওয়েব্যাক মেশিন আর্কাইভের তথ্য দেওয়া আছে।
ঢাকার সরকারি কলেজের তালিকা ২০২৭
ঢাকার সরকারি কলেজের তালিকা ২০২৭ অনুযায়ী ঢাকা জেলা ও মহানগরে মোট ২৬টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই নিচের সারণিতে সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী কলেজের নাম, প্রতিষ্ঠার বছর, অবস্থান এবং উপজেলা সাজানো হয়েছে। “ওয়েবসাইট” লেখা থাকলেও নির্দিষ্ট URL দেওয়া হয়নি। সুতরাং প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কলেজের বর্তমান সরকারি ওয়েব ঠিকানা যাচাই করুন।
| ক্রম | কলেজের নাম | স্থাপিত | অবস্থান | উপজেলা বা এলাকা |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ঢাকা কলেজ | ১৮৪১ | নিউমার্কেট, মিরপুর রোড | ধানমন্ডি |
| ২ | ইডেন মহিলা কলেজ | ১৮৭৩ | আজিমপুর, লালবাগ | আজিমপুর |
| ৩ | বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ | ১৯৪৮ | ঢাকেশ্বরী রোড | লালবাগ |
| ৪ | সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ | ১৯৪৯ | লক্ষ্মীবাজার | সূত্রপুর |
| ৫ | সরকারি বিজ্ঞান কলেজ | ১৯৫৪ | পূর্ব তেজতুরী বাজার | তেজগাঁও |
| ৬ | গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স | ১৯৬১ | আজিমপুর রোড | লালবাগ |
| ৭ | সরকারি বাঙলা কলেজ | ১৯৬২ | দারুসালাম সড়ক, মিরপুর-১ | মিরপুর |
| ৮ | সরকারি সংগীত কলেজ | ১৯৬৩ | শ্যামলী | মোহাম্মদপুর |
| ৯ | সরকারি দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ | ১৯৬৫ | সামসাবাদ | নবাবগঞ্জ উপজেলা |
| ১০ | লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ | ১৯৬৬ | ব্লক বি লালমাটিয়া | মোহাম্মদপুর |
| ১১ | সাভার সরকারি কলেজ | ১৯৬৭ | সাভার দক্ষিণ পাড়া | সাভার উপজেলা |
| ১২ | মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ | ১৯৬৭ | পূর্ব জাফরাবাদ | মোহাম্মদপুর |
| ১৩ | সরকারি তিতুমীর কলেজ | ১৯৬৮ | মহাখালী | বনানী থানা |
| ১৪ | সরকারি ইস্পাহানী কলেজ | ১৯৭০ | শাক্তা | কেরানীগঞ্জ |
| ১৫ | ধামরাই সরকারি কলেজ | ১৯৭২ | দক্ষিণপাড়া ধামরাই | ধামরাই |
| ১৬ | কবি নজরুল সরকারি কলেজ | ১৯৭৪ | লক্ষ্মী বাজার | সূত্রাপুর |
| ১৭ | মিরপুর সরকারি মহিলা কলেজ | ১৯৮০ | মিরপুর সেক্টর-২ | মিরপুর |
| ১৮ | পদ্মা সরকারি কলেজ | ১৯৯২ | মুকসুদপুর, দোহার | দোহার উপজেলা |
| ১৯ | পল্লবী সরকারি কলেজ | ১৯৯৪ | শহীদবাগ, মিরপুর সিরামিক রোড | পল্লবী |
| ২০ | ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ | ১৯৯৭ | লক্ষ্মী বাজার | সূত্রাপুর |
| ২১ | ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজ | ২০১২ | পশ্চিম কাটাসুর | মোহাম্মদপুর |
| ২২ | উত্তরা সরকারি কলেজ | ২০১৩ | হাজি ক্যাম্প রোড, সেক্টর নং-৪ | উত্তরা |
| ২৩ | হাজারীবাগ সরকারি কলেজ | ২০১৩ | হাজারীবাগ লেন | হাজারীবাগ |
| ২৪ | ভাসানটেক সরকারি কলেজ | ২০১৪ | বিআরপি গেট, ভাসানটেক রোড | ভাসান টেক |
| ২৫ | সবুজবাগ সরকারি কলেজ | ২০১৭ | দক্ষিণ বাসাবো | সবুজবাগ |
| ২৬ | দুয়ারীপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয় | ২০১৮ | দুয়ারীপাড়া | পল্লবী |
প্রতিষ্ঠার বছর কী বোঝায়
প্রতিষ্ঠার বছর কলেজের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়, কিন্তু একা এটি শিক্ষার মান বা ভর্তি-সুযোগ নির্ধারণ করে না। উদাহরণ হিসেবে, ১৮৪১ সালের ঢাকা কলেজ ও ১৮৭৩ সালের ইডেন মহিলা কলেজ দীর্ঘ শিক্ষাগত ঐতিহ্যের উদাহরণ। অন্যদিকে, ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি কলেজ নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শহুরে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার বছরকে ক্যাম্পাসের অবস্থান, বিষয়ের প্রাপ্যতা, শ্রেণির সময়সূচি এবং যাতায়াতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা বেশি কার্যকর। যেমন, মিরপুর বা মোহাম্মদপুরের শিক্ষার্থী কাছের কলেজ বেছে নিলে প্রতিদিনের যাতায়াতের সময় কমতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ভর্তি বিজ্ঞপ্তির বিষয়তালিকা অবশ্যই মিলিয়ে নিন।
পুরোনো ও নতুন প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য
পুরোনো কলেজে ঐতিহ্য, বড় প্রাক্তন শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। অন্যদিকে, নতুন কলেজে বাড়ির কাছাকাছি অবস্থান বা নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ যোগাযোগের সুবিধা দেখা যায়। তাই কোন দিকটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই বাছাইয়ের মূল প্রশ্ন।
- ঐতিহ্য: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিষ্ঠান।
- বিষয়ভিত্তিক আগ্রহ: সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, সরকারি সংগীত কলেজ এবং গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স আলাদা শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত।
- অবস্থান: মিরপুর, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, সাভার ও দোহার অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন বিকল্প রয়েছে।
শহর ও উপজেলা অনুযায়ী বাছাই
ঢাকার সরকারি কলেজের তালিকা ২০২৭ থেকে কলেজ বাছাইয়ের সময় এলাকার নামের সঙ্গে প্রকৃত যাতায়াতপথ মিলিয়ে দেখা দরকার। কারণ তালিকায় ঢাকা মহানগরের পাশাপাশি সাভার, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ এবং কেরানীগঞ্জের কলেজ রয়েছে। একই জেলার মধ্যে দূরত্ব ও যানজটের বাস্তব পার্থক্য যথেষ্ট হতে পারে।
| অঞ্চল বা উপজেলা | তালিকায় থাকা কলেজের উদাহরণ | বাছাইয়ের সময় নজর দেওয়ার বিষয় |
|---|---|---|
| মিরপুর | সরকারি বাঙলা কলেজ, মিরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পল্লবী সরকারি কলেজ | মিরপুরের ভেতরের যাতায়াত ও সড়ক সংযোগ |
| মোহাম্মদপুর | সরকারি সংগীত কলেজ, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ | বিষয়, শ্রেণির সময় এবং দৈনিক যাতায়াত |
| লালবাগ | ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ | মহিলা কলেজের ভর্তি শর্ত ও বিষয়তালিকা |
| সাভার ও ধামরাই | সাভার সরকারি কলেজ, ধামরাই সরকারি কলেজ | স্থানীয় পরিবহন ও উপজেলা পর্যায়ের সুবিধা |
| দোহার ও নবাবগঞ্জ | পদ্মা সরকারি কলেজ, সরকারি দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ | বাসা থেকে দূরত্ব এবং যাতায়াতের সময় |
ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি যাতায়াত করেন। সেক্ষেত্রে ক্লাস, পড়াশোনা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু নামের পরিচিতি দেখে নয়, বাসা থেকে কলেজে যাওয়ার সম্ভাব্য রুট, পরিবহন খরচ এবং বর্ষাকালের যোগাযোগ পরিস্থিতিও বিবেচনা করুন।
ওয়েবসাইট যাচাইয়ের সঠিক পদ্ধতি
কলেজের ওয়েবসাইটে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, বিভাগ, নোটিশ, পরীক্ষার তথ্য এবং যোগাযোগের বিবরণ প্রকাশিত হতে পারে। সরবরাহ করা তালিকায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পাশে “Website” উল্লেখ আছে। তবে নির্দিষ্ট URL অনুপস্থিত। এদিকে, কয়েকটি ওয়েবসাইটের তথ্য ওয়েব্যাক মেশিনে সংরক্ষিত থাকার কথা বলা হয়েছে।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ওয়েবসাইট ৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ওয়েবসাইট ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এবং গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্সের ওয়েবসাইট ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ছিল। একইভাবে, উত্তরা সরকারি কলেজের আর্কাইভ তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৫।
এছাড়াও, সরকারি সংগীত কলেজ, সরকারি দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজ এবং ভাসানটেক সরকারি কলেজের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন। মিরপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও পল্লবী সরকারি কলেজের সংযোগ স্থায়ীভাবে অকার্যকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পদ্মা সরকারি কলেজের পাশে nubd.info এবং ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের ওয়েব্যাক আর্কাইভের তথ্য রয়েছে।
সরকারি শিক্ষা-সংক্রান্ত সাধারণ তথ্য যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে। তবে কোনো কলেজের ভর্তি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কলেজের সর্বশেষ নোটিশকে অগ্রাধিকার দিন।
ভর্তির আগে যে তথ্য মিলিয়ে নেবেন
কলেজের নামের তালিকা প্রাথমিক সিদ্ধান্তে সাহায্য করে, কিন্তু ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য আরও কিছু তথ্য প্রয়োজন। ২০২৭ সালের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে নিচের বিষয়গুলো একসঙ্গে যাচাই করুন। তবে বিজ্ঞপ্তি বদলাতে পারে, তাই ২০২৬ সালের তথ্যকে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
- প্রথমে আপনার কাঙ্ক্ষিত বিভাগ ও বিষয়টি কলেজে চালু আছে কি না দেখুন।
- এরপর ভর্তি যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মিলিয়ে নিন।
- এছাড়াও ক্লাসের সময়, পরীক্ষার কেন্দ্র এবং উপস্থিতির নিয়ম জেনে নিন।
- কলেজে পৌঁছানোর সম্ভাব্য রুট, সময় ও পরিবহন খরচ হিসাব করুন।
- ভর্তি ফি, সেশন ফি এবং অন্যান্য নির্ধারিত খরচের সরকারি নোটিশ সংরক্ষণ করুন।
- সবশেষে ওয়েবসাইট, নোটিশ বোর্ড বা কলেজ অফিসে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে অনলাইন পোস্টের মিল যাচাই করুন।
নবীন শিক্ষার্থীর জন্য সহজ পদ্ধতি
প্রথমবার কলেজ বাছাই করলে আগে কাছাকাছি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একটি ছোট তালিকা করুন। এরপর বিষয়ের মিল, যাতায়াত এবং ভর্তি যোগ্যতা দেখে তালিকাটি দুই বা তিনটিতে নামিয়ে আনুন। ফলে পরিচিতির ভিত্তিতে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমে।
অভিজ্ঞ আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত যাচাই
অভিজ্ঞ আবেদনকারী শুধু কলেজের নাম দেখবেন না। বরং তিনি বিভাগভিত্তিক আসন, শিফট, ক্লাসের সময়, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক নোটিশের ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে ওয়েবসাইট পুরোনো বা অকার্যকর হলে সরাসরি কলেজ অফিসে যোগাযোগ করা বেশি নির্ভরযোগ্য।
সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
ঢাকার সরকারি কলেজের তালিকা ২০২৭ দেখার সময় একটি সাধারণ ভুল হলো তালিকাকে সরাসরি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি মনে করা। তালিকায় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও অবস্থান আছে, কিন্তু ২০২৭ সালের আসনসংখ্যা, বিষয়, আবেদন পদ্ধতি বা শেষ তারিখ এখানে নির্ধারিত নয়। তাই এসব তথ্য কেবল সংশ্লিষ্ট বছরের অফিসিয়াল নোটিশে নিশ্চিত হবে।
- পুরোনো ওয়েব্যাক আর্কাইভকে বর্তমান ওয়েবসাইটের বিকল্প ধরে নেওয়া।
- একই এলাকার নাম দেখে কলেজের প্রকৃত যাতায়াত সহজ হবে মনে করা।
- প্রতিষ্ঠার বছরকে শিক্ষার মানের একমাত্র সূচক হিসেবে বিবেচনা করা।
- কলেজের নামের বানান বা অবস্থান যাচাই না করে অনলাইন ফর্ম পূরণ করা।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ধরে নেওয়া।
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, একই শহরের দুটি কলেজের দূরত্ব কাগজে কম মনে হলেও যানজট, রুট পরিবর্তন এবং ক্লাস শুরুর সময়ের কারণে দৈনিক অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীর বাস্তব রুট যাচাই করা কেবল অতিরিক্ত সতর্কতা নয়, কার্যকর সিদ্ধান্তের অংশ।
প্রশ্নোত্তর
ঢাকার সরকারি কলেজের তালিকায় মোট কতটি কলেজ আছে?
সরবরাহ করা ঢাকা জেলা তালিকায় মোট ২৬টি সরকারি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরের প্রতিষ্ঠান এবং সাভার, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের কলেজও অন্তর্ভুক্ত।
তালিকার সবচেয়ে পুরোনো কলেজ কোনটি?
ঢাকা কলেজ তালিকার সবচেয়ে পুরোনো প্রতিষ্ঠান। এটি ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং নিউমার্কেট, মিরপুর রোড এলাকায় অবস্থিত বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য কোন কলেজগুলো তালিকায় আছে?
ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজ এবং মিরপুর সরকারি মহিলা কলেজ নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান।
ওয়েবসাইট না খুললে কী করা উচিত?
ওয়েবসাইট অকার্যকর হলে কলেজের নোটিশ বোর্ড, অফিসিয়াল যোগাযোগ নম্বর বা সরাসরি প্রশাসনিক দপ্তর থেকে তথ্য নিন। তবে ওয়েব্যাক আর্কাইভ পুরোনো তথ্য দেখাতে পারে, তাই ২০২৭ সালের ভর্তি তথ্যের জন্য সেটিকে একমাত্র উৎস করবেন না।
২০২৭ সালের ভর্তি তথ্য কি এই তালিকায় দেওয়া আছে?
না। তালিকায় কলেজের নাম, প্রতিষ্ঠার বছর, অবস্থান এবং উপজেলা দেওয়া হয়েছে। তাই ২০২৭ সালের ভর্তি যোগ্যতা, আসন, ফি ও সময়সীমা জানতে সংশ্লিষ্ট কলেজের নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তি যাচাই করতে হবে।
প্রতিষ্ঠার বছর দেখে কি কলেজ নির্বাচন করা যায়?
প্রতিষ্ঠার বছর ঐতিহ্য বোঝায়, কিন্তু সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি নয়। তাই বিষয়ের সুযোগ, যাতায়াত, ক্লাসের সময়, ভর্তি শর্ত এবং শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত লক্ষ্য একসঙ্গে বিবেচনা করাই ভালো।
চূড়ান্ত বাছাইয়ের আগে
ঢাকার সরকারি কলেজের তালিকা ২০২৭ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রাথমিক বাছাই সহজ করে। ২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আপনার জন্য উপযুক্ত কলেজ নির্ধারণে অবস্থান, পছন্দের বিষয়, ভর্তি যোগ্যতা এবং দৈনিক যাতায়াতকে সমান গুরুত্ব দিন। এরপর ২০২৭ সালের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তথ্যগুলো আবার মিলিয়ে নিয়ে আবেদন করুন।
সবশেষে, প্রকাশের আগে কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, নোটিশ বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই নিরাপদ পরবর্তী পদক্ষেপ।
ভাই, ঢাকার সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে ভালো কলেজ কোনগুলো? ভর্তি ও বিষয়ভিত্তিক তথ্যগুলো কি একটু জানাবেন?
তানভীর হাসান, ভালো কলেজ নির্বাচন আপনার পছন্দের বিষয়, ফলাফল, যাতায়াত ও ভর্তি-শর্তের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ বেশ পরিচিত; তবে বিভাগভেদে সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ভর্তি ও বিষয়ভিত্তিক আসন, যোগ্যতা ও আবেদনপদ্ধতির সর্বশেষ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখুন।