নোয়াখালী কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে নোয়াখালী, মাইজদি, চৌমহনি, সুনাইমুড়ি এবং লাকসামের যাত্রা অনেক সহজ হয়। অন্যদিকে সময় না জেনে স্টেশনে গেলে অপেক্ষা বা ট্রেন মিস করার ঝুঁকি থাকে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৮৭ নম্বর ট্রেন নোয়াখালী থেকে লাকসাম যায়। একইভাবে ৮৮ নম্বর ট্রেন লাকসাম থেকে নোয়াখালী ফিরে আসে।
- নোয়াখালী থেকে লাকসাম: বিকাল ৫:১৫ থেকে সন্ধ্যা ৭:১০
- লাকসাম থেকে নোয়াখালী: বিকাল ৩:২০ থেকে বিকাল ৫:১০
- সাপ্তাহিক বন্ধ: শুক্রবার
- টিকিট: স্টেশন কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হয়
তাই নিচের সময়গুলো স্থানীয় যাত্রীদের পরিকল্পনা করার জন্য সাজানো হয়েছে। তবে যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার বা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্য থেকে সময় ও ভাড়া আবার মিলিয়ে নিন।
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ৮৭ নম্বর ট্রেন নোয়াখালী জংশন থেকে বিকাল ৫:১৫-এ ছাড়ে এবং সন্ধ্যা ৭:১০-এ লাকসামে পৌঁছায়। বিপরীত পথে ৮৮ নম্বর ট্রেন লাকসাম থেকে বিকাল ৩:২০-এ ছেড়ে নোয়াখালীতে বিকাল ৫:১০-এ পৌঁছায়।
এছাড়াও দুটি ট্রেনই নোয়াখালী ও লাকসামের মাঝের গুরুত্বপূর্ণ লোকাল স্টেশনে থামে। তাই যাত্রীর গন্তব্য যদি মাইজদি, চৌমহনি বা সুনাইমুড়ি হয়, তাহলে পুরো রুটের শেষ সময় দেখার বদলে নিজের স্টেশনের ছাড়ার সময়টি অনুসরণ করা জরুরি।
দ্রুত সময়ের সারাংশ
| ট্রেন নম্বর | রুট | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| ৮৭ | নোয়াখালী জংশন থেকে লাকসাম | বিকাল ৫:১৫ | সন্ধ্যা ৭:১০ |
| ৮৮ | লাকসাম থেকে নোয়াখালী | বিকাল ৩:২০ | বিকাল ৫:১০ |
নোয়াখালী থেকে লাকসাম
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেনের ৮৭ নম্বর সার্ভিস নোয়াখালী জংশন থেকে বিকাল ৫:১৫-এ ছাড়ে। এরপর পথে ১০টি মধ্যবর্তী স্টেশনে থেমে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭:১০-এ লাকসামে পৌঁছায়। শহরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য মাইজদি কোর্ট, মাইজদি এবং চৌমহনি স্টেশন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
| স্টেশন | ছাড়ার সময় |
|---|---|
| নোয়াখালী জংশন | বিকাল ৫:১৫ |
| হরিনারায়ণপুর | বিকাল ৫:২২ |
| মাইজদি কোর্ট | বিকাল ৫:২৮ |
| মাইজদি | বিকাল ৫:৩৫ |
| চৌমহনি | বিকাল ৫:৪৭ |
| বজরা | সন্ধ্যা ৬:০০ |
| সুনাইমুড়ি | সন্ধ্যা ৬:০৮ |
| বিপুলাসার | সন্ধ্যা ৬:১৭ |
| নাথের পেটুয়া | সন্ধ্যা ৬:৩৫ |
| খিলা | সন্ধ্যা ৬:৪৭ |
| দৌলতগঞ্জ | সন্ধ্যা ৭:০০ |
| লাকসাম | সন্ধ্যা ৭:১০ |
ধরা যাক, একজন যাত্রী মাইজদি কোর্ট থেকে উঠবেন। তাঁর জন্য শুধু নোয়াখালী জংশনের ছাড়ার সময় জানা যথেষ্ট নয়। বরং মাইজদি কোর্টে ট্রেন পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় ৫:২৮। নিরাপদভাবে উঠতে হলে তাই অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে থাকা ভালো।
লাকসাম থেকে নোয়াখালী
লাকসাম থেকে নোয়াখালী যাওয়ার জন্য ৮৮ নম্বর নোয়াখালী কমিউটার ট্রেন বিকাল ৩:২০-এ ছাড়ে। এরপর নির্ধারিত স্টপেজ অনুযায়ী ট্রেনটি দৌলতগঞ্জ, খিলা, নাথের পেটুয়া, সুনাইমুড়ি, চৌমহনি এবং মাইজদি হয়ে নোয়াখালীতে পৌঁছায়।
| স্টেশন | ছাড়ার সময় |
|---|---|
| লাকসাম | বিকাল ৩:২০ |
| দৌলতগঞ্জ | বিকাল ৩:২৭ |
| খিলা | বিকাল ৩:৪০ |
| নাথের পেটুয়া | বিকাল ৩:৫৫ |
| বিপুলাসার | বিকাল ৪:০০ |
| সুনাইমুড়ি | বিকাল ৪:১০ |
| বজরা | বিকাল ৪:২০ |
| চৌমহনি | বিকাল ৪:৩০ |
| মাইজদি | বিকাল ৪:৪০ |
| মাইজদি কোর্ট | বিকাল ৪:৫০ |
| হরিনারায়ণপুর | বিকাল ৫:০০ |
| নোয়াখালী | বিকাল ৫:১০ |
লাকসাম থেকে যাত্রা করলে বিকাল ৩:২০-কে একমাত্র ধরার সময় হিসেবে দেখবেন না। কারণ টিকিট সংগ্রহ, প্ল্যাটফর্ম খোঁজা এবং ভিড় সামলানোর জন্য অন্তত ২০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনের সঙ্গে সংযোগ থাকলে অতিরিক্ত সময় রাখা দরকার।
ভাড়া ও টিকিটের নিয়ম
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেনের দেওয়া ভাড়া তালিকায় শোভন চেয়ার ৬০ টাকা এবং স্নিগ্ধা ১১৫ টাকা উল্লেখ আছে। তবে টিকিট নেওয়ার আগে কাউন্টারে বর্তমান ভাড়া ও আসনশ্রেণি নিশ্চিত করুন। কারণ রেলওয়ের ভাড়া বা শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে।
| আসনশ্রেণি | উল্লেখিত ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬০ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ১১৫ টাকা |
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেন লোকাল সার্ভিস হিসেবে স্টেশন কাউন্টারভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থায় চলাচল করে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে এই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। তাই নোয়াখালী বা লাকসাম স্টেশন থেকে কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
- প্রথমে যাত্রার রুট ও গন্তব্য ঠিক করুন।
- এরপর নোয়াখালী বা লাকসাম স্টেশনের কাউন্টারে যান।
- ট্রেন ছাড়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে টিকিট সংগ্রহ করুন।
- তারপর টিকিটে উল্লেখিত গন্তব্য ও ভাড়া যাচাই করুন।
- সবশেষে প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে অপেক্ষা করুন।
সাধারণ ভুল হলো কাউন্টারে দেরিতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে টিকিট চাওয়া। কারণ লোকাল ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা বেশি হলে কাউন্টার ও প্ল্যাটফর্মে সময় লাগতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার আগে ভাড়ার তালিকা বা কাউন্টার রসিদ মিলিয়ে নিন।
ট্রেনের অবস্থান জানবেন যেভাবে
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেন এখন কোথায় আছে তা জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশন ব্যবহার করা যায়। ৮৭ নম্বর ট্রেনের জন্য TR 87 এবং ৮৮ নম্বর ট্রেনের জন্য TR 88 লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে পাঠাতে হবে।
এরপর কিছুক্ষণ পর ফিরতি এসএমএসে ট্রেনের অবস্থান জানানো হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি এসএমএসের জন্য ৫ টাকা চার্জ প্রযোজ্য। তাই বার্তা পাঠানোর আগে নম্বর ও ট্রেন কোড সঠিকভাবে লিখুন। কারণ একটি অতিরিক্ত স্পেস বা ভুল নম্বরের কারণে কাঙ্ক্ষিত তথ্য নাও আসতে পারে।
তবে এসএমএসের অবস্থান সবসময় রিয়েল-টাইম প্ল্যাটফর্ম নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। তাই স্টেশনের ঘোষণা, কাউন্টার এবং রেলওয়ে কর্মীদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে সিদ্ধান্তটি বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।
বন্ধের দিন ও যাত্রার টিপস
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী কমিউটার ট্রেন প্রতি শুক্রবার বন্ধ থাকে। অর্থাৎ শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন নোয়াখালী ও লাকসামের মধ্যে ট্রেনটি চলাচল করে। তবে সরকারি সূচিতে পরিবর্তন হলে বন্ধের দিন বা ছাড়ার সময় বদলাতে পারে। তাই যাত্রার দিন যাচাই করা উচিত।
- প্রথমত, স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে পৌঁছান।
- লোকাল ট্রেন হওয়ায় ভিড়ের জন্য দাঁড়ানোর জায়গা সীমিত হতে পারে।
- তাই টিকিট, মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় টাকা সহজে পাওয়া যায় এমন স্থানে রাখুন।
- মাইজদি বা চৌমহনি থেকে উঠলে নিজের স্টেশনের সময় অনুসরণ করুন।
- এছাড়াও লাকসামে অন্য ট্রেন ধরার পরিকল্পনা থাকলে সংযোগের মাঝে বাড়তি সময় রাখুন।
নোয়াখালী জংশন থেকে বিকাল ৫:১৫-এর ট্রেন ধরতে হলে শেষ মুহূর্তে স্টেশনে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ শহরের যানজট, কাউন্টার-লাইন এবং প্ল্যাটফর্ম বদলের মতো বিষয় থাকতে পারে। তাই আগেভাগে বের হওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
সাধারণ প্রশ্নের উত্তর
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেন কখন নোয়াখালী ছাড়ে?
নোয়াখালী থেকে লাকসামের উদ্দেশ্যে ৮৭ নম্বর ট্রেন বিকাল ৫:১৫-এ ছাড়ে। অন্যদিকে লাকসাম থেকে আসা ৮৮ নম্বর ট্রেন নোয়াখালীতে বিকাল ৫:১০-এ পৌঁছায়।
লাকসাম থেকে নোয়াখালী ট্রেন কখন ছাড়ে?
৮৮ নম্বর নোয়াখালী কমিউটার ট্রেন লাকসাম থেকে বিকাল ৩:২০-এ ছাড়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নোয়াখালী পৌঁছানোর সময় বিকাল ৫:১০।
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেন কি শুক্রবার চলে?
দেওয়া রেলওয়ে তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ট্রেনটি বন্ধ থাকে। তবে বাকি ছয় দিন চলাচল করার কথা থাকলেও যাত্রার দিন স্টেশন থেকে সূচি নিশ্চিত করা ভালো।
অনলাইনে কি টিকিট কেনা যায়?
লোকাল ট্রেন হিসেবে নোয়াখালী কমিউটার ট্রেনের অনলাইন টিকিট না পাওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাই নোয়াখালী বা লাকসাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
ট্রেনের অবস্থান জানতে কত টাকা লাগে?
TR 87 বা TR 88 লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি বার্তায় অবস্থান জানা যায়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি এসএমএসের চার্জ ৫ টাকা।
নোয়াখালী থেকে লাকসাম যেতে কত ভাড়া?
দেওয়া ভাড়া তালিকায় শোভন চেয়ারের মূল্য ৬০ টাকা এবং স্নিগ্ধার মূল্য ১১৫ টাকা উল্লেখ আছে। তাই কাউন্টার থেকে বর্তমান ভাড়া নিশ্চিত করে টাকা দিন।
যাত্রার আগে শেষ যাচাই
নোয়াখালী কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী অনুসরণ করে নোয়াখালী থেকে লাকসাম যেতে ৮৭ নম্বর ট্রেনের বিকাল ৫:১৫-এর ছাড়ার সময় মনে রাখুন। বিপরীত পথে ৮৮ নম্বর ট্রেন লাকসাম থেকে বিকাল ৩:২০-এ ছাড়ে। তবে নিজের স্টেশনের সময় আলাদা করে দেখে আগেভাগে প্ল্যাটফর্মে পৌঁছান।
টিকিটের জন্য স্টেশন কাউন্টার ব্যবহার করুন। অবস্থান জানতে ১৬৩১৮ নম্বরে সঠিক ট্রেন কোড পাঠান এবং শুক্রবারের বন্ধের বিষয়টি মাথায় রাখুন। সবশেষে যাত্রার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্য বা স্টেশন কাউন্টার থেকে সর্বশেষ সময় ও ভাড়া যাচাই করলেই পরিকল্পনাটি আরও নির্ভরযোগ্য হবে।