সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানা থাকলে খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঈশ্বরদী ও রাজশাহী রুটে যাত্রার পরিকল্পনা অনেক সহজ হয়। ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭৬১ নম্বর ট্রেনটি খুলনা থেকে বিকেল ৪টায় ছেড়ে রাত ১০টায় রাজশাহী পৌঁছায়। অন্যদিকে, ৭৬২ নম্বর ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস সোমবার বন্ধ থাকে। তবে বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে কয়েকটি মধ্যবর্তী স্টেশনের সময়ে অমিল দেখা যায়। তাই নিচের মূল সূচি পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করলেও টিকিট কাটার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাম্প্রতিক তথ্য বা স্টেশন কাউন্টার থেকে সময় মিলিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
- ট্রেন নম্বর: ৭৬১ খুলনা থেকে রাজশাহী
- ট্রেন নম্বর: ৭৬২ রাজশাহী থেকে খুলনা
- সাপ্তাহিক বন্ধ: সোমবার
- প্রধান রুট: খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ঈশ্বরদী ও রাজশাহী
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী ৭৬১ নম্বর ট্রেনটি খুলনা থেকে বিকেল ৪টায় যাত্রা শুরু করে রাত ১০টায় রাজশাহীতে পৌঁছায়। বিপরীত দিকে, ৭৬২ নম্বর ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
| ট্রেন নম্বর | রুট | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | আনুমানিক যাত্রা | বন্ধের দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| ৭৬১ | খুলনা → রাজশাহী | বিকেল ৪:০০ | রাত ১০:০০ | প্রায় ৬ ঘণ্টা | সোমবার |
| ৭৬২ | রাজশাহী → খুলনা | সকাল ৬:০০ | দুপুর ১২:১০ | প্রায় ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট | সোমবার |
রুটটির দূরত্ব প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি, ট্রেনটি আন্তঃনগর পরিষেবা হিসেবে খুলনা ও রাজশাহীকে যুক্ত করে। যাত্রাপথে যশোর, দর্শনা হল্ট, চুয়াডাঙ্গা, পোড়াদহ, ভেড়ামারা, পাকশী ও ঈশ্বরদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রয়েছে।
খুলনা থেকে রাজশাহী স্টপেজ
খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ৭৬১ নম্বর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের বিস্তারিত আগমন ও ছাড়ার সময় নিচের তালিকায় দেওয়া হলো। সাধারণত যাত্রাপথে কোনো স্টেশনে ট্রেন কয়েক মিনিটের বেশি দাঁড়ায় না। তবে পোড়াদহ জংশন ও আব্দুলপুরে তুলনামূলক দীর্ঘ বিরতি দেখা যায়।
| স্টেশন | আগমন | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|
| খুলনা | — | ১৬:০০ |
| নওয়াপাড়া | ১৬:১৮ | ১৬:২০ |
| যশোর | ১৭:০৫ | ১৭:১০ |
| মোবারকগঞ্জ | ১৭:৩২ | ১৭:৩৩ |
| কোটচাঁদপুর | ১৭:৫০ | ১৭:৫১ |
| দর্শনা হল্ট | ১৮:১৫ | ১৮:১৭ |
| চুয়াডাঙ্গা | ১৮:৩৫ | ১৮:৩৭ |
| আলমডাঙ্গা | ১৯:০১ | ১৯:০৩ |
| পোড়াদহ জংশন | ১৯:২৫ | ১৯:৩৫ |
| ভেড়ামারা | ১৯:৫২ | ১৯:৫৩ |
| পাকশী ডিভিশনাল | ২০:০৭ | ২০:০৯ |
| ঈশ্বরদী বাইপাস | ২০:২৫ | ২০:২৬ |
| আজিমনগর | ২০:৪২ | ২০:৪৩ |
| আব্দুলপুর | ২১:০৫ | ২১:১০ |
| রাজশাহী | ২২:০০ | — |
নওয়াপাড়া থেকে যাত্রা করলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেনটি ১৬:১৮-এ পৌঁছে ১৬:২০-এ ছাড়ে। আবার, রাজশাহীর কাছাকাছি আব্দুলপুরে ৫ মিনিটের বিরতি রয়েছে। ফলে খুব অল্প সময় হাতে রেখে স্টেশনে পৌঁছানো ঠিক নয়।
রাজশাহী থেকে খুলনা ফেরার সূচি
৭৬২ নম্বর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস রাজশাহী থেকে সকাল ৬টায় ছাড়ে। নির্ধারিত সূচিতে ঈশ্বরদীতে ২০ মিনিটের বিরতি রয়েছে। এরপর ট্রেনটি যশোর ও নওয়াপাড়া হয়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। তাই মধ্যবর্তী স্টেশন থেকে ওঠার ক্ষেত্রে আগমন ও ছাড়ার সময় দুটোই দেখে নিন।
| স্টেশন | আগমন | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|
| রাজশাহী | — | ০৬:০০ |
| আব্দুলপুর | ০৬:৪০ | ০৬:৪২ |
| আজিমনগর | ০৬:৫১ | ০৬:৫৩ |
| ঈশ্বরদী | ০৭:১০ | ০৭:৩০ |
| পাকশী | ০৭:৪০ | ০৭:৪২ |
| ভেড়ামারা | ০৭:৫৪ | ০৭:৫৭ |
| মিরপুর | ০৮:০৭ | ০৮:০৯ |
| পোড়াদহ | ০৮:১৯ | ০৮:২২ |
| আলমডাঙ্গা | ০৮:৩৮ | ০৮:৪০ |
| চুয়াডাঙ্গা | ০৮:৫৬ | ০৮:৫৯ |
| দর্শনা হল্ট | ০৯:২০ | ০৯:২৩ |
| সফদারপুর | ০৯:৪০ | ০৯:৪২ |
| কোটচাঁদপুর | ০৯:৫১ | ০৯:৫৩ |
| মোবারকগঞ্জ | ১০:০৫ | ১০:০৭ |
| যশোর | ১০:৩৫ | ১০:৩৯ |
| নওয়াপাড়া | ১১:০৭ | ১১:১০ |
| খুলনা | ১২:১০ | — |
রাজশাহী থেকে ভোরের ট্রেন ধরতে হলে স্টেশনে আগেই পৌঁছানো দরকার। বিশেষ করে ঈশ্বরদী, যশোর বা নওয়াপাড়া থেকে উঠতে চাইলে শুধু ছাড়ার সময় নয়, আগমনের সময়ও দেখে পরিকল্পনা করুন। এতে দেরির কারণে ট্রেন মিস করার ঝুঁকি কমে।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের ভাড়া
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনের ধরন ও যাত্রার দূরত্ব অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। প্রকাশিত তালিকায় খুলনা থেকে রাজশাহী, যশোর থেকে রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী এবং ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহীর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, অনলাইনে টিকিট কাটলে প্রতি টিকিটে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে।
| আসনের ধরন | খুলনা ↔ রাজশাহী | যশোর ↔ রাজশাহী | চুয়াডাঙ্গা ↔ রাজশাহী | ঈশ্বরদী ↔ রাজশাহী |
|---|---|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৩৬০ টাকা | ২৮৫ টাকা | ১৬৫ টাকা | ৯০ টাকা |
| স্নিগ্ধা, এসি চেয়ার | ৬৮৫ টাকা | ৫৪৫ টাকা | ৩৩০ টাকা | ২০৫ টাকা |
| শান, এসি সিট | ৮২৮ টাকা | ৬৫৫ টাকা | ৩৯৫ টাকা | ২৩০ টাকা |
| সুচেতনা, এসি বার্থ | ১২৪২ টাকা | — | — | — |
ভাড়ার তালিকায় কিছু শ্রেণির জন্য সব রুটের আলাদা মূল্য প্রকাশিত নেই। তাই যশোর, দর্শনা বা ঈশ্বরদী থেকে নির্দিষ্ট আসন নিতে চাইলে অনলাইন বুকিংয়ের চূড়ান্ত মূল্য দেখুন। অন্যদিকে, পুরনো কোনো তালিকা দেখে ভাড়া ধরে নেওয়া ভালো নয়।
টিকিট কাটার নিয়ম
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানার পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আসন নিশ্চিত করা। অনলাইনে টিকিটের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনে NID বা জন্মসনদ এবং মোবাইল নম্বরের প্রয়োজন হতে পারে।
- প্রথমে যাত্রার তারিখ ও গন্তব্য নির্বাচন করুন।
- এরপর ৭৬১ বা ৭৬২ নম্বর ট্রেনের আসন খুঁজে দেখুন।
- আসনের ধরন বেছে নিয়ে যাত্রীর তথ্য পূরণ করুন।
- পেমেন্ট সম্পন্ন করে ই-টিকিট সংরক্ষণ করুন।
- স্টেশনে যাওয়ার সময় টিকিটের তথ্য ও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
স্টেশন কাউন্টার থেকেও টিকিট কেনা যায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কাউন্টারে যাত্রার ৫ দিন আগে থেকে টিকিট পাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে ঈদ, পূজা ও দীর্ঘ ছুটির সময় আসন দ্রুত শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বুকিংয়ের সময় বর্তমান নির্দেশনা মিলিয়ে নিন, কারণ টিকিট বিক্রির নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।
যাত্রার আগে যে ভুলগুলো এড়াবেন
সময়সূচী দেখে সরাসরি স্টেশনে চলে যাওয়া অনেক যাত্রীর সাধারণ ভুল। প্রথমত, সোমবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় ওই দিনে ৭৬১ বা ৭৬২ নম্বর ট্রেন ধরার পরিকল্পনা করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, মধ্যবর্তী স্টেশনের সময়ে প্রকাশিত তথ্যের অমিল থাকায় যাত্রার আগের দিন যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ।
- শুধু গন্তব্যের সময় দেখা: তাই স্টেশনে ট্রেন কখন পৌঁছাবে এবং কখন ছাড়বে, দুটোই দেখুন।
- অনলাইন ফি বাদ দেওয়া: প্রকাশিত ভাড়ার সঙ্গে অনলাইনে প্রতি টিকিটে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে।
- শেষ মুহূর্তে টিকিট খোঁজা: বিশেষ ছুটিতে আসন দ্রুত শেষ হতে পারে, তাই আগেভাগে বুকিং পরীক্ষা করুন।
- অমিল সময়কে উপেক্ষা করা: বিভিন্ন সূত্রে নওয়াপাড়া, ঈশ্বরদী ও কয়েকটি স্টেশনের সময়ে পার্থক্য দেখা যায়।
- ট্রেন নম্বর না দেখা: খুলনা-রাজশাহী যাত্রার জন্য ৭৬১ এবং রাজশাহী-খুলনা যাত্রার জন্য ৭৬২ নম্বর মনে রাখুন।
দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ পরিকল্পনায় একটি ব্যবহারিক পদ্ধতি হলো সম্ভাব্য দেরির জন্য অতিরিক্ত সময় রাখা। যেমন, রাজশাহীতে দুপুরের পর কোনো নির্দিষ্ট কাজ থাকলে সকাল ৬টার ট্রেনের নির্ধারিত পৌঁছানোর সময়ের ওপর পুরো পরিকল্পনা না সাজিয়ে কিছু ব্যবধান রাখা যুক্তিযুক্ত। ফলে সংযোগযাত্রা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ মিস হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমে।
প্রশ্নোত্তর
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের বন্ধের দিন কোনটি?
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সোমবার। তবে ৭৬১ ও ৭৬২ নম্বর ট্রেন সপ্তাহের বাকি ছয় দিন চলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনা থেকে রাজশাহী ট্রেন কখন ছাড়ে?
৭৬১ নম্বর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস খুলনা থেকে বিকেল ৪টায় ছাড়ে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাত ১০টায় রাজশাহী পৌঁছায়।
রাজশাহী থেকে খুলনা ট্রেন কখন ছাড়ে?
৭৬২ নম্বর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস রাজশাহী থেকে সকাল ৬টায় ছাড়ে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ট্রেনটি দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের খুলনা-রাজশাহী ভাড়া কত?
প্রকাশিত তালিকায় শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৬০ টাকা, স্নিগ্ধার ভাড়া ৬৮৫ টাকা, শানের ভাড়া ৮২৮ টাকা এবং এসি বার্থের ভাড়া ১২৪২ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে অনলাইনে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস কোথায় কোথায় থামে?
ট্রেনটি নওয়াপাড়া, যশোর, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, দর্শনা হল্ট, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, পোড়াদহ, ভেড়ামারা, পাকশী, ঈশ্বরদী, আজিমনগর ও আব্দুলপুরে বিরতি দেয়।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের টিকিট কোথায় কাটব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম, নির্দিষ্ট রেলওয়ে কাউন্টার এবং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কিছু রেল টিকিটিং অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে বর্তমান মাধ্যম যাচাই করুন।
অনলাইনে টিকিট কাটলে অতিরিক্ত কত টাকা লাগে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে টিকিট কাটলে প্রতি টিকিটে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে। তাই বুকিংয়ের শেষ ধাপে মোট মূল্য দেখে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
ভ্রমণের আগে শেষ যাচাই
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ সালে মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মধ্যবর্তী স্টেশনের সময় নিয়ে উৎসভেদে পার্থক্য রয়েছে। তাই ৭৬১ বা ৭৬২ নম্বর ট্রেনে যাত্রার আগে টিকিটের তথ্য, বন্ধের দিন, আসনভাড়া ও স্টেশনভিত্তিক সময় আবার যাচাই করুন।
বিশেষ করে সোমবার, ঈদ, পূজা বা দীর্ঘ ছুটির সময় ট্রেন চলাচল ও টিকিটের প্রাপ্যতা সম্পর্কে সরাসরি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্যকে অগ্রাধিকার দিন। এতে ভুল দিনে স্টেশনে যাওয়া এবং সংযোগযাত্রা মিস করার ঝুঁকি কমে।