বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬

আপডেট পেতে WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন 🥳 ফলো করুন

বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬ নিয়ে ভোক্তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ১২ কেজির সিলিন্ডার কত টাকায় কেনা উচিত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি ৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল থেকে এই সিলিন্ডারের সরকারি সর্বোচ্চ খুচরা দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। ফলে সেপ্টেম্বরে ১,৫৮৫ টাকা থাকা সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে।

  • অক্টোবর ২০২৬-এ ১২ কেজির সরকারি দাম: ১,৮৩৭ টাকা
  • সেপ্টেম্বরের দাম: ১,৫৮৫ টাকা
  • বৃদ্ধি: ২৫২ টাকা
  • সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বাজারদর: ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা

নতুন দর ঘোষণার পর পুরোনো ব্র্যান্ডভিত্তিক তালিকা দেখে দোকানে দাম আশা করা ঠিক হবে না। বিশেষ করে বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা ও বিএমের আগের তালিকাভুক্ত দাম নতুন সরকারি রেটের পর আর বর্তমান বাজারদরের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক নয়। তাই কেনার আগে স্থানীয় বিক্রেতার কাছ থেকে দর যাচাই করা জরুরি।

বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬

বিইআরসির ৪ অক্টোবরের ঘোষণায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন সরকারি দাম ১,৮৩৭ টাকা। এই দর ৪ অক্টোবর বিকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে ব্র্যান্ড আলাদা হলেও ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে কোম্পানি, ডিলার ও এলাকার ভিত্তিতে বাস্তব বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

আগের সরবরাহ করা তালিকায় বসুন্ধরা ১,৬৫০ টাকা, যমুনা ১,৭২৮ টাকা, ওমেরা ১,২৮০ টাকা ও বিএম ১,৩৫০ টাকা ছিল। কিন্তু তালিকাটি নতুন রেট ঘোষণার আগের। তাই এগুলোকে ৪ অক্টোবর ২০২৬-এর বর্তমান দাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

ব্র্যান্ডআগের তালিকাভুক্ত দামবর্তমান অবস্থান
বসুন্ধরা১,৬৫০ টাকাপুরোনো তালিকা; নতুন দাম দোকানভেদে যাচাই করতে হবে
যমুনা১,৭২৮ টাকাপুরোনো তালিকা; বর্তমান দর নিশ্চিত নয়
ওমেরা১,২৮০ টাকাসেপ্টেম্বরের সরকারি দরের চেয়েও কম; পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
বিএম১,৩৫০ টাকাসেপ্টেম্বরের সরকারি দরের চেয়েও কম; বর্তমান দর নয়

লক্ষ করার মতো বিষয় হলো, আগের তালিকায় ওমেরা ও বিএমের দাম সেপ্টেম্বরের সরকারি ১,৫৮৫ টাকার চেয়েও কম ছিল। ফলে এই অসামঞ্জস্যই দেখায় যে তালিকাটি সম্ভবত পুরোনো, অঞ্চলভেদে আলাদা অথবা নির্দিষ্ট সরবরাহ চ্যানেলের দাম ছিল।

Read More:  আরএফএল সিঙ্গেল ও ডাবল গ্যাসের চুলার দাম ২০২৬

কেন ২৫২ টাকা বাড়ল

অক্টোবর ২০২৬-এর দর সমন্বয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, কার্গো প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়ার চাপ কাজ করেছে বলে অপারেটররা দাবি করেছেন। তবে শুধু আমদানি ব্যয় নয়, সেপ্টেম্বরের বাজারে অস্বাভাবিক দামের অভিযোগও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নামে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌপথে পরিবহন জটিলতা ও কার্গো আনতে বেশি সময় লাগায় খরচও বেড়েছে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রেজা বলেছেন, অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়েছে।

ওমেরা পেট্রোলিয়ামের সিইও তানজীম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। একই সময়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোও সেপ্টেম্বরের ঘাটতির একটি কারণ ছিল।

সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্যের জন্য ভোক্তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সরকারি তথ্য যাচাই করতে পারেন। তাই সরকারি ঘোষণা, বাজারদর ও কোম্পানির সরবরাহ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই বাস্তব পরিস্থিতি ভালো বোঝা যায়।

বাজারে সংকটের অভিযোগ কতটা

সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ১,৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার খুচরা বাজারে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ ওঠে। ফলে ভোক্তারা এটিকে সিন্ডিকেটের প্রভাব হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলেছেন, ডিলার ও পরিবেশকদের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হওয়ায় সরকারি দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছিল না।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, কিছু এলপিজি অপারেটর ও কোম্পানি কাস্টমস খালাস পিছিয়ে বঙ্গোপসাগরে জাহাজ ভাসিয়ে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছিল। এরপর বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে বিশেষ বৈঠক হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিইআরসি অক্টোবরের দর সমন্বয় করেছে।

এর আগে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, দেশে সরবরাহে ঘাটতি নেই। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দাম নেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি বলেন। তাই বাজারে অতিরিক্ত দাম দেখলে শুধু সরবরাহ সংকটের কথা শুনে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একাধিক বিক্রেতার দর যাচাই করা ভালো।

অন্য ওজনের সিলিন্ডারের দাম

১২ কেজির সরকারি দাম ১,৮৩৭ টাকা ধরে অন্য ওজনের সিলিন্ডারের দাম আনুপাতিকভাবে হিসাব করা হয়েছে। তবে তারকাচিহ্নিত অঙ্কগুলো আনুমানিক। বিইআরসির সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ওজনের নির্দিষ্ট দর আলাদাভাবে দেওয়া থাকলে সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

Read More:  মটোরোলা, ভিভো, স্যামসাং, টেকনো মোবাইল বাংলাদেশ প্রাইস ২০২৬
সিলিন্ডারের ওজনআনুমানিক দাম
৫.৫ কেজি৮৪২ টাকা
১২ কেজি১,৮৩৭ টাকা
১২.৫ কেজি১,৯১৪ টাকা
১৫ কেজি২,২৯৬ টাকা
১৬ কেজি২,৪৪৯ টাকা
১৮ কেজি২,৭৫৬ টাকা
২০ কেজি৩,০৬২ টাকা
২২ কেজি৩,৩৬৮ টাকা
২৫ কেজি৩,৮২৭ টাকা
৩০ কেজি৪,৫৯৩ টাকা
৩৩ কেজি৫,০৫২ টাকা
৩৫ কেজি৫,৩৫৯ টাকা
৪৫ কেজি৬,৮৮৯ টাকা

বিইআরসি ৫ কেজি, ১২.৫ কেজি, ১৫ কেজি, ৩০ কেজি ও ৪৫ কেজি সিলিন্ডার এবং অটোগ্যাসের দামও আনুপাতিক হারে বাড়িয়েছে। তবে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তির নির্দিষ্ট অঙ্ক মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

২০২৬ সালে দামের ওঠানামা

২০২৬ সালে ১২ কেজি এলপিজির দামে একাধিকবার বড় পরিবর্তন হয়েছে। জানুয়ারির ১,২৫৩ টাকা থেকে এপ্রিলের রেকর্ড ১,৯৪০ টাকায় পৌঁছানোর পর দাম আবার কমে। ফলে অক্টোবরের নতুন দর এপ্রিলের রেকর্ডের চেয়ে ১০৩ টাকা কম।

সময়পরিবর্তন১২ কেজির দাম
জানুয়ারি ২০২৬—১,২৫৩ টাকা
এপ্রিল ২০২৬দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি১,৯৪০ টাকা
জুন ২০২৬৫৫ টাকা কমেছেপ্রদত্ত তথ্যে নির্দিষ্ট নয়
জুলাই ২০২৬৩৫৭ টাকা কমেছেপ্রদত্ত তথ্যে নির্দিষ্ট নয়
আগস্ট ২০২৬৭০ টাকা বেড়েছে১,৫৯৮ টাকা
সেপ্টেম্বর ২০২৬১৩ টাকা কমেছে১,৫৮৫ টাকা
অক্টোবর ২০২৬২৫২ টাকা বেড়েছে১,৮৩৭ টাকা

আগের বছরগুলোর সরকারি দর

বিইআরসি ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবার বেসরকারি এলপিজির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে দর পরিবর্তিত হয়েছে।

  • ডিসেম্বর ২০২১: ১,২২৮ টাকা
  • ডিসেম্বর ২০২২: ১,২৯৭ টাকা
  • জুন ২০২৩: ৯৯৯ টাকা, যা ওই সময়ের সর্বনিম্ন
  • ডিসেম্বর ২০২৩: ১,৪০৪ টাকা
  • নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৪: ১,৪৫৫ টাকা
  • ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ১,৪৭৮ টাকা, যা ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ
  • নভেম্বর ২০২৫: ১,২১৫ টাকা, যা ২০২৫ সালের সর্বনিম্ন

এই ধারায় বোঝা যায়, এলপিজির দাম স্থির নয়। কারণ আন্তর্জাতিক কাঁচামালের মূল্য, পরিবহন ব্যয়, আমদানির পরিমাণ ও দেশীয় সরবরাহের ওপর মাসভিত্তিক দর নির্ভর করে।

সরবরাহ পরিস্থিতির বড় চিত্র

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ বাসাবাড়িতে ব্যবহার হয়। আবার দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমদানি করে। ফলে আমদানি ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তন হলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

Read More:  আইফোন, শাওমি, স্যামসাং ব্লুটুথ হেডফোন প্রাইস ২০২৬

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন নৌপথে পরিবহন জটিল হয়েছে। এতে কার্গো আনতে সময় ও ব্যয় উভয়ই বেড়েছে। তবে সরবরাহ কমার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ—দুই দিকই আলাদাভাবে বিবেচনা করা দরকার।

কেনার আগে পাঁচটি যাচাই

ব্যস্ত পরিবারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো দোকানে যাওয়ার আগে সরকারি দর, ডেলিভারি খরচ ও সিলিন্ডারের পরিচয় একসঙ্গে নিশ্চিত করা। শুধু ব্র্যান্ডের নাম শুনে অর্ডার করলে অতিরিক্ত মূল্য বা পুরোনো স্টকের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

  1. সরকারি দর মিলিয়ে নিন: ১২ কেজির জন্য ১,৮৩৭ টাকা মূল বেঞ্চমার্ক হিসেবে রাখুন।
  2. দুটি দোকানে ফোন করুন: একই ব্র্যান্ড ও একই ওজনের দাম তুলনা করুন।
  3. ডেলিভারি চার্জ জিজ্ঞেস করুন: ঘোষিত দামের সঙ্গে পরিবহন বা বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার খরচ যুক্ত কি না জেনে নিন।
  4. সিল ও ওজন পরীক্ষা করুন: সিলিন্ডারের সিল, ব্র্যান্ড, ওজন ও নিরাপত্তা চিহ্ন দেখুন।
  5. অতিরিক্ত দাম হলে অভিযোগ করুন: দোকানের নাম, সময়, চাওয়া দাম ও সম্ভব হলে রসিদ সংরক্ষণ করুন।

ঢাকায় Gas Dei, Cylinderwala ও Gas Monkey হোম ডেলিভারি দেয় বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ আছে। তবে অর্ডারের আগে স্টক, ব্র্যান্ড, মোট মূল্য ও ডেলিভারি চার্জ নিশ্চিত করুন। ঢাকার বাইরে স্থানীয় বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করাই সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত। এছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করাও জরুরি।

সাধারণ ভুলগুলো এড়ান

বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, বিএম এলপিজি গ্যাসের দাম ২০২৬ খুঁজতে গিয়ে অনেকেই পুরোনো তালিকাভুক্ত দামকে বর্তমান দর ধরে নেন। এটিই সবচেয়ে সাধারণ ভুল। একইভাবে সরকারি সর্বোচ্চ দর, দোকানের বিক্রয়মূল্য ও বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মোট খরচকে এক করে দেখলেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

  • অক্টোবরের নতুন ঘোষণার পরও সেপ্টেম্বরের ১,৫৮৫ টাকা ধরে দাম আশা করা।
  • পুরোনো ব্র্যান্ডভিত্তিক তালিকাকে বর্তমান কোম্পানি-দর হিসেবে ব্যবহার করা।
  • ডেলিভারি চার্জ আলাদা কি না না জেনে অর্ডার করা।
  • সিল, ওজন বা নিরাপত্তা চিহ্ন না দেখে সিলিন্ডার নেওয়া।
  • একটি দোকানের বক্তব্য শুনেই বাজারে সংকটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম কত?

৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল থেকে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৮৩৭ টাকা। তবে সেপ্টেম্বরে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৫৮৫ টাকা।

এলপিজির দাম কত বেড়েছে?

১২ কেজির সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা। অর্থাৎ নতুন দর ১,৮৩৭ টাকা, যা সেপ্টেম্বরের ১,৫৮৫ টাকার চেয়ে বেশি।

নতুন দাম কখন থেকে কার্যকর?

বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল থেকেই ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন সরকারি দর কার্যকর হয়েছে।

বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা ও বিএমের দাম কত?

আগের তালিকায় দাম ছিল যথাক্রমে ১,৬৫০, ১,৭২৮, ১,২৮০ ও ১,৩৫০ টাকা। তবে এগুলো নতুন রেটের পর নির্ভরযোগ্য নয়। তাই বর্তমান দর স্থানীয় বিক্রেতার কাছে যাচাই করুন।

বাজারে কি সত্যিই এলপিজি সংকট ছিল?

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ব্যবসায়ীরা আমদানি ও কার্গো সমস্যার কথা বলেছেন। একই সময়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে।

বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হলে কী করবেন?

প্রথমে কয়েকটি দোকানে দাম তুলনা করুন এবং ১,৮৩৭ টাকার সরকারি দর মিলিয়ে নিন। অতিরিক্ত দাম চাইলে দোকানের তথ্য সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যসেবায় অভিযোগ করুন।

কেনার সময় বাস্তব সিদ্ধান্ত

৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ১২ কেজির সরকারি দাম ১,৮৩৭ টাকা—ক্রেতার জন্য এটিই প্রধান reference point। তবে ডেলিভারি চার্জ, স্থানীয় সরবরাহ, ব্র্যান্ডের স্টক ও দোকানের অবস্থানের কারণে মোট পরিশোধের অঙ্ক আলাদা হতে পারে।

তাই বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা বা বিএম—যে ব্র্যান্ডই নিন, পুরোনো তালিকার ওপর নির্ভর না করে একই দিনে অন্তত দুটি বিক্রেতার কাছ থেকে মোট মূল্য জেনে নিন। সবশেষে অর্ডারের আগে বিইআরসির সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পরবর্তী পদক্ষেপ।

Rakib Hasan

আমি একজন লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি খবর, চাকরি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল ও সহজবোধ্য কনটেন্ট প্রকাশ করেন। তাঁর লক্ষ্য পাঠকদের সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য প্রদান করা।

Sharing Is Caring:

Leave a Comment