সোনালী ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম বুঝতে মূলত পাঁচটি ঘর ঠিকভাবে পূরণ করতে হয়: তারিখ, প্রাপকের নাম, কথায় টাকার পরিমাণ, অঙ্কে টাকার পরিমাণ এবং নমুনা স্বাক্ষর। এরপর প্রতিটি লেখার পর ফাঁকা জায়গায় দাগ টানুন। বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা হলে চেক ক্রস করে দেওয়া নিরাপদ।
সোনালী ব্যাংকের চেকে ছোট একটি ভুলও চেক ফেরত আসার কারণ হতে পারে। যেমন, নামের বানান, স্বাক্ষর, তারিখ, টাকার অঙ্ক কিংবা MICR লাইনে অসাবধানতা হলে আবার শাখায় যেতে হয়। সরকারি বেতন, পেনশন, ভাতা ও বিভিন্ন বিলের লেনদেনে সোনালী ব্যাংকের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এই বিষয়গুলো জানা বেশ কাজে লাগে।
- সোনালী ব্যাংকের চেকে প্রধানত পাঁচটি ঘর পূরণ করতে হয়।
- তবে “Or Bearer” রেখে দিলে যে কেউ চেক নিয়ে নগদ টাকা তুলতে পারে।
- বড় অঙ্কের চেকে A/C Payee ক্রস ও প্রযোজ্য হলে Positive Pay বিবেচনা করুন।
- এছাড়াও চেকের নিচের MICR লাইনে কলমের দাগ বা ভাঁজ দেবেন না।
সোনালী ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম কী
সোনালী ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম হলো তারিখ লিখে প্রাপকের নাম নির্ভুলভাবে বসানো, একই পরিমাণ টাকা কথায় ও অঙ্কে লেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী চেক ক্রস করা এবং হিসাব খোলার সময় দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল রেখে সই করা। ভুল হলে ঘষামাজা না করে নতুন চেক ব্যবহার করাই নিরাপদ।

সোনালী ব্যাংকের চেকের নকশা অন্য ব্যাংকের চেয়ে কিছুটা আলাদা হতে পারে। তবে ঘরগুলোর ব্যবহার সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যাংকিং প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই নিচে প্রতিটি ঘরের অবস্থান ও কাজ একসঙ্গে দেখা যাক।
| ঘর | চেকের অবস্থান | কী লিখবেন |
|---|---|---|
| তারিখ | উপরের ডান কোণে | যেদিন চেক দিচ্ছেন সেই দিনের তারিখ |
| প্রাপক | মাঝের প্রথম লম্বা লাইনে | যাকে টাকা দেবেন তার পুরো নাম |
| কথায় টাকা | দ্বিতীয় লম্বা লাইনে | টাকার পরিমাণ অক্ষরে লিখে শেষে “মাত্র” বা “Only” |
| অঙ্কে টাকা | ডান পাশের ছোট বক্সে | সংখ্যায় টাকার পরিমাণ ও প্রয়োজনে “/-” |
| স্বাক্ষর | নিচের ডান কোণে | হিসাব খোলার সময় দেওয়া নমুনা স্বাক্ষর |
চেকের নিচে ছাপানো সংখ্যার সারিকে MICR লাইন বলা হয়। এখানে চেক নম্বর, ব্যাংক-শাখার রাউটিং কোড ও হিসাব নম্বর থাকে। মেশিন এই অংশ পড়ে চেক প্রক্রিয়া করে। তাই MICR লাইনে কলমের দাগ দেবেন না এবং চেক ভাঁজ করবেন না।
পাঁচটি ঘর কীভাবে পূরণ করবেন
১. তারিখ সঠিকভাবে লিখুন
তারিখের ঘরে চেক দেওয়ার দিনের দিন-মাস-বছর লিখুন। উদাহরণ হিসেবে ০৫-১০-২০২৬ বা 05-10-2026 লেখা যায়। কোনো কোনো চেকে তারিখের জন্য আলাদা ছোট খোপ থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি খোপে একটি করে অঙ্ক বসান।
তবে তারিখ লেখার সময় মাস ও দিনের অবস্থান গুলিয়ে ফেলবেন না। ভবিষ্যতের তারিখ দিয়ে চেক দিলে সেটি নির্দিষ্ট তারিখের আগে নগদায়ন করা যায় না। আবার ছয় মাসের বেশি পুরনো তারিখের চেক তামাদি হিসেবে ধরা হতে পারে।
২. প্রাপকের নাম লিখুন
“Pay” লেখা লাইনে যাকে টাকা দেবেন তার পুরো নাম লিখুন। নামটি প্রাপকের ব্যাংক হিসাব বা পরিচয়পত্রে থাকা বানানের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। নিজে টাকা তুলতে চাইলে নিজের নাম অথবা “Self” লেখা যায়।
নাম লেখার পর তাই লাইনের বাকি অংশে একটি লম্বা দাগ টেনে দিন। এতে কেউ নামের পাশে অতিরিক্ত শব্দ যোগ করার সুযোগ পায় না। নামের বানানে সন্দেহ থাকলে চেক দেওয়ার আগে প্রাপকের কাছ থেকে সঠিক বানান জেনে নিন।
৩. কথায় টাকার পরিমাণ লিখুন
“Taka” লেখা লাইনে টাকার পরিমাণ অক্ষরে লিখুন। বাংলায় লিখলে শেষে “মাত্র” এবং ইংরেজিতে লিখলে “Only” ব্যবহার করুন। উদাহরণ: “পঁচিশ হাজার পাঁচশত টাকা মাত্র” অথবা “Twenty Five Thousand Five Hundred Only”।
কথায় লেখা অংশের পরও ফাঁকা জায়গায় দাগ টানুন। কথায় ও অঙ্কে লেখা টাকার পরিমাণ এক হতে হবে। ফলে দুটি অংশে সামান্য পার্থক্য থাকলেও ব্যাংক চেক ফেরত দিতে পারে।
৪. অঙ্কে টাকার পরিমাণ বসান
ডান পাশের বক্সে সংখ্যায় টাকার পরিমাণ লিখুন। যেমন ২৫,৫০০/- অথবা 25,500/-। সংখ্যাটি বক্সের একদম বাঁ দিক থেকে শুরু করুন। পাশাপাশি মাঝখানে অপ্রয়োজনীয় ফাঁকা রাখবেন না।
অঙ্কের শেষে “/-” লিখলে সংখ্যার পরে অতিরিক্ত অঙ্ক বসানোর সুযোগ কমে। তবু কেবল এই চিহ্নের ওপর নির্ভর না করে বক্সের অব্যবহৃত অংশে দাগ টানুন। লেখা শেষ হলে কথায় ও অঙ্কে থাকা পরিমাণ আবার মিলিয়ে দেখুন।
৫. নমুনা স্বাক্ষর দিন
নিচের ডান কোণে হিসাব খোলার সময় দেওয়া স্বাক্ষরের মতো করে সই করুন। স্বাক্ষরের আকার, ঢং বা বানান বদলে গেলে ব্যাংক সেটি নমুনার সঙ্গে না মেলার কারণে ফেরত দিতে পারে।
যৌথ হিসাবের ক্ষেত্রে হিসাব পরিচালনার নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে একজনের স্বাক্ষর যথেষ্ট হতে পারে অথবা দুজন হিসাবধারীর সই দরকার হতে পারে। তাই সন্দেহ থাকলে শাখা থেকে হিসাবের অপারেটিং ম্যান্ডেট জেনে নিন।
পূর্ণ করা চেকের নমুনা
ধরা যাক ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে করিম হোসেনকে ৪২,৭৫০ টাকা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় চেক পূরণ করলে তথ্যগুলো এমন হবে।
| ঘর | যা লিখবেন |
|---|---|
| তারিখ | ০৫-১০-২০২৬ |
| Pay | করিম হোসেন |
| কথায় টাকা | বিয়াল্লিশ হাজার সাতশত পঞ্চাশ টাকা মাত্র |
| অঙ্কে | ৪২,৭৫০/- |
| স্বাক্ষর | হিসাবধারীর নমুনা স্বাক্ষর |
ইংরেজিতে লিখলে Date হবে 05-10-2026, Pay ঘরে “Karim Hossain”, কথায় টাকার অংশে “Forty Two Thousand Seven Hundred Fifty Only” এবং অঙ্কে 42,750/-। বাংলা বা ইংরেজি দুটোই ব্যবহার করা যায়। তবে একই চেকে একটি ভাষা অনুসরণ করলে মিলিয়ে দেখা সহজ হয়।
Bearer, Order ও Cross চেকের পার্থক্য
চেকের Pay লাইনের শেষে ছাপানো “Or Bearer” কথাটির অর্থ হলো চেকটি যে ব্যক্তি কাউন্টারে নিয়ে যাবে সে নগদ টাকা চাইতে পারে। চেক হারিয়ে গেলে এই ব্যবস্থায় ঝুঁকি বেশি। তাই প্রাপক নির্দিষ্ট করা ও চেক ক্রস করা নিরাপত্তা বাড়ায়।
| চেকের ধরন | কী করবেন | টাকা পাওয়ার পদ্ধতি |
|---|---|---|
| Bearer চেক | কিছু কাটবেন না | চেক বহনকারী নগদ তুলতে পারে |
| Order চেক | “Or Bearer” কেটে “Or Order” লিখুন | নাম উল্লেখ করা ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে তুলতে পারেন |
| Cross চেক | উপরের বাঁ কোণে দুটি সমান্তরাল দাগ দিন | নগদ নয়, হিসাবের মাধ্যমে জমা হয় |
| A/C Payee Only | দাগের মাঝে “A/C Payee Only” লিখুন | শুধু প্রাপকের নিজের হিসাবে জমা হওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় |
বড় অঙ্কের টাকা কাউকে দিলে A/C Payee Only ক্রস চেক তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে নিজে কাউন্টার থেকে নগদ তুলতে চাইলে চেক ক্রস করবেন না। কারণ ক্রস করা চেক সাধারণত নগদে ভাঙানো যায় না।
বড় চেকে Positive Pay কখন লাগে
Positive Pay হলো বড় অঙ্কের চেক যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা। চেক দেওয়ার পর হিসাবধারী ব্যাংককে চেক নম্বর, টাকার পরিমাণ ও প্রাপকের তথ্য জানিয়ে রাখেন। এরপর জমা পড়া চেকের তথ্যের সঙ্গে আগে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ৩ লাখ টাকা বা তার বেশি ক্লিয়ারিং চেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় Positive Pay প্রযোজ্য হতে পারে। আবার অনেক ব্যাংক নিজস্ব নীতিতে ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি অঙ্কে এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করে। তাই সোনালী ব্যাংকের আপনার শাখা কোন সীমা অনুসরণ করছে তা বড় চেক দেওয়ার আগে জেনে নিন।
Positive Pay তথ্য না দিলে প্রাপকের ব্যাংক থেকে চেক ফেরত আসতে পারে। সুতরাং বড় লেনদেনে শুধু চেক হাতে দেওয়াই শেষ ধাপ নয়। চেক নম্বর, অঙ্ক ও প্রাপকের নাম শাখার নির্দেশনা অনুযায়ী জমা রাখুন।
সোনালী ব্যাংকে চেক জমা হলে টাকা আসে কখন
সোনালী ব্যাংকে চেক জমা ও ক্লিয়ারিংয়ের সময় নির্ভর করে চেকটি কোন ব্যাংকের এবং কোথায় জমা দেওয়া হয়েছে তার ওপর। একই ব্যাংকের একই শাখায় নগদ উত্তোলন দ্রুত হতে পারে। তবে অন্য ব্যাংকের চেক হলে ক্লিয়ারিং চক্র ও জমার সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
| পরিস্থিতি | সাধারণ সময় |
|---|---|
| সোনালী ব্যাংকের চেক, একই শাখায় নগদ উত্তোলন | সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে |
| সোনালী ব্যাংকের চেক, সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা | সাধারণত একই দিনে |
| অন্য ব্যাংকের সাধারণ মূল্যের চেক, ৫ লাখ টাকার কম | সাধারণত পরের কর্মদিবস |
| অন্য ব্যাংকের উচ্চ মূল্যের চেক, ৫ লাখ টাকা বা বেশি | কাট-অফের আগে জমা হলে একই দিনে হতে পারে |
অন্য ব্যাংকের চেক বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা BACPS-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। তাই শাখায় সকালের দিকে চেক জমা দিলে সেদিনের ক্লিয়ারিংয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তবে শুক্র-শনি ও ব্যাংক ছুটির দিনে ক্লিয়ারিং হয় না।
টাকা জমা হয়েছে ধরে নেওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাপ বা স্টেটমেন্টে লেনদেনটি মিলিয়ে নিন। এছাড়া নির্দিষ্ট কাট-অফ সময় ও ছুটির সূচি শাখাভেদে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রয়োজনে সোনালী ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করুন।
চেক ফেরত আসার সাধারণ কারণ
সোনালী ব্যাংক চেক লেখার নিয়ম মেনে চললেও চেক জমা দেওয়ার আগে শেষবার যাচাই না করলে সমস্যা হতে পারে। সাধারণত সবচেয়ে বেশি ভুল হয় কথায় ও অঙ্কে টাকার অমিল, স্বাক্ষর না মেলা এবং চেকে কাটাকাটি থাকার কারণে।
| ভুল | সম্ভাব্য ফল | কীভাবে এড়াবেন |
|---|---|---|
| কথায় ও অঙ্কে টাকার পরিমাণ আলাদা | চেক ফেরত | সই করার আগে দুই অংশ মিলিয়ে নিন |
| স্বাক্ষর নমুনার সঙ্গে মেলে না | চেক ফেরত | হিসাবের নমুনা স্বাক্ষর অনুসরণ করুন |
| তারিখ ছয় মাসের বেশি পুরনো | চেক তামাদি | নতুন তারিখে নতুন চেক নিন |
| কাটাকাটি বা ঘষামাজা | শাখা চেক গ্রহণ নাও করতে পারে | ভুল হলে নতুন পাতায় লিখুন |
| হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই | চেক ডিজঅনার ও অতিরিক্ত ঝুঁকি | চেক দেওয়ার আগে ব্যালেন্স দেখুন |
| MICR লাইনে দাগ বা ভাঁজ | মেশিনে চেক পড়তে সমস্যা | চেক সমতল ও পরিষ্কার রাখুন |
| ক্রস চেক নগদে তুলতে যাওয়া | কাউন্টার থেকে টাকা পাওয়া যাবে না | নগদ তুললে চেক ক্রস করবেন না |
ভুল হলে ঘষে ঠিক করার চেষ্টা করবেন না। বরং চেকের পাতায় “বাতিল” লিখে কাউন্টার ফয়েলে তারিখ, প্রাপক ও টাকার পরিমাণের একটি নোট রাখুন। এরপর নতুন পাতায় চেক লিখুন। বারবার চেক ডিজঅনার হলে ব্যাংকিং সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ ঋণসংক্রান্ত কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চেক বই পাওয়া ও হারালে করণীয়
চেক বই পেতে সাধারণত নিজের শাখায় চেক বইয়ের রিকুইজিশন স্লিপ জমা দিতে হয়। এছাড়া আগের চেক বইয়ের শেষে থাকা রিকুইজিশন পাতাও ব্যবহার করা যেতে পারে। চেক বইয়ের ফি পাতার সংখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই সর্বশেষ ফি শাখা বা ব্যাংকের প্রকাশিত চার্জ তালিকা থেকে জেনে নিন।
এখনও সোনালী ব্যাংকে হিসাব খোলা না থাকলে আগে হিসাব খোলার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শাখার নির্দেশনা যাচাই করুন। হিসাব খোলার পর চেক বই পেতে আলাদা সময় বা প্রক্রিয়া লাগতে পারে।
চেক হারালে দ্রুত যে পদক্ষেপ নেবেন
- সঙ্গে সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের শাখায় ফোন করে বা সরাসরি গিয়ে Stop Payment নির্দেশ দিন।
- এরপর হারানো চেকের নম্বরগুলো কাউন্টার ফয়েল থেকে শনাক্ত করুন।
- তারপর নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করুন।
- সবশেষে লিখিত আবেদনের সঙ্গে জিডির কপি শাখায় জমা দিন।
Stop Payment নির্দেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চেক নগদায়ন বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে নির্দেশ দেওয়ার আগেই কেউ Bearer চেক ভাঙিয়ে ফেললে টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই চেক বা চেক বই হারানোর খবর পেলে দেরি না করাই সবচেয়ে জরুরি।
সরকারি বেতন বা পেনশনের চেক
সরকারি বেতন, পেনশন, ভাতা, অফিসের বিল ও অনুদানের লেনদেনে সোনালী ব্যাংকের চেক দেখা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক চেকে প্রতিষ্ঠানের সিল ও একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে পারে। তাই চেক হাতে পাওয়ার পর কাউন্টারে যাওয়ার আগেই এসব তথ্য মিলিয়ে নিন।
আপনার নামের বানান, টাকার অঙ্ক, তারিখ, প্রতিষ্ঠানের সিল এবং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে গরমিল থাকলে চেক প্রদানকারী অফিসে সংশোধন করান। ব্যাংক কাউন্টার থেকে ফেরত আসার পর সংশোধনের চেষ্টা করলে সময় বেশি লাগে। এই যাচাইটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যখন একই দিনে বেতন বা পেনশনের টাকা জমা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে।
নিরাপদ চেক ব্যবহারের অভ্যাস
- কালো বা নীল বলপেন ব্যবহার করুন। তবে জেল পেন বা পেন্সিল এড়িয়ে চলুন।
- ফাঁকা চেকে কখনো আগে থেকে স্বাক্ষর করে রাখবেন না।
- প্রতিটি চেকের কাউন্টার ফয়েলে তারিখ, প্রাপকের নাম ও টাকার পরিমাণ লিখে রাখুন।
- বড় অঙ্কের টাকায় A/C Payee Only ক্রস চেক ব্যবহার করুন।
- চেক বই আলমারি বা লকারে রাখুন। পাশাপাশি মানিব্যাগে বহন করবেন না।
- ছোট ও দ্রুত লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিং বিবেচনা করতে পারেন। তবে ব্যবহারের আগে প্রযোজ্য চার্জ জেনে নিন।
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো চেক নিরাপত্তা শুধু লেখার সময় শেষ হয় না। বরং চেক বই সংরক্ষণ, কাউন্টার ফয়েল রাখা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট মিলিয়ে দেখাও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সোনালী ব্যাংকের চেক লেখার নিয়ম কি অন্য ব্যাংক থেকে আলাদা?
মূল ঘর ও লেখার পদ্ধতি সাধারণত একই। তবে পার্থক্য থাকতে পারে চেকের নকশা, চেক বইয়ের ফি এবং সরকারি চেকে অতিরিক্ত সিল-সইয়ের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে।
সোনালী ব্যাংকের চেক বাংলায় লেখা যায়?
বাংলায় তারিখ, নাম ও টাকার পরিমাণ লেখা যায়। কথায় টাকার শেষে “মাত্র” লিখুন। একই চেকে সম্ভব হলে একটি ভাষাই ব্যবহার করুন।
সোনালী ব্যাংকের চেকের মেয়াদ কতদিন?
চেকে লেখা তারিখ থেকে সাধারণত ছয় মাসের মধ্যে চেক উপস্থাপন করতে হয়। এরপর চেক তামাদি হলে চেকদাতার কাছ থেকে নতুন চেক নিতে হবে।
অন্য শাখা থেকে সোনালী ব্যাংকের চেক ভাঙানো যায়?
অনলাইন সুবিধাসম্পন্ন শাখায় অনেক ক্ষেত্রে অন্য শাখার সোনালী ব্যাংক চেক ভাঙানো যায়। তবে অঙ্ক ও শাখাভেদে সীমা থাকতে পারে। বড় অঙ্ক হলে আগে ফোনে জেনে নিন।
চেকে ভুল লিখলে কেটে সই দিলেই কি চলবে?
কিছু শাখা সংশোধনের পাশে পূর্ণ স্বাক্ষর গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু তারিখ, নাম বা টাকার অঙ্কে কাটাকাটি থাকলে ঝুঁকি থাকে। তাই নতুন পাতায় লেখা নিরাপদ।
নিজের নামে চেক লিখে টাকা তোলা যায়?
Pay লাইনে নিজের নাম বা “Self” লিখে টাকা তোলা যায়। তবে চেক ক্রস করবেন না। কাউন্টারে চেকের পেছনে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দিন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
চেক দেওয়ার আগে শেষ যাচাই
সোনালী ব্যাংকের চেক লেখা মূলত পাঁচটি ধাপের কাজ: তারিখ, প্রাপকের নাম, কথায় টাকা, অঙ্কে টাকা এবং স্বাক্ষর। কিন্তু নিরাপদ লেনদেনের জন্য Bearer বা Cross অবস্থাও বুঝতে হবে। বড় অঙ্ক হলে Positive Pay-এর প্রয়োজন আছে কি না সেটিও শাখায় জেনে নিন।
সই করার আগে নামের বানান, দুইভাবে লেখা টাকার পরিমাণ, তারিখ, হিসাবের ব্যালেন্স ও চেক নম্বর মিলিয়ে নিন। এরপর চেক জমা দেওয়ার পর ব্যাংক স্টেটমেন্টে লেনদেনটি নিশ্চিত করুন। কোনো নিয়ম বা সীমা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই নিরাপদ পরবর্তী পদক্ষেপ।