একাদশী তালিকা ২০২৬ বাংলাদেশ খুঁজতে গেলে শুধু ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তারিখ দেখলেই হবে না। বরং চন্দ্রতিথি, বাংলাদেশের স্থানীয় সূর্যোদয়, স্মার্ত বা বৈষ্ণবীয় পরম্পরা এবং ব্যবহৃত পঞ্জিকার গণনাপদ্ধতি মিলিয়ে ব্রতের দিন নির্ধারিত হয়। ২০২৬ সালের প্রাথমিক তালিকায় মাসভেদে একাদশীর তারিখ দেওয়া হলো। তবে নির্দিষ্ট ব্রত ও পারণের আগে স্থানভিত্তিক পঞ্জিকা অবশ্যই যাচাই করুন।
কোনো ভক্ত যদি ঢাকা, চট্টগ্রাম বা খুলনার জন্য একই ক্যালেন্ডার ব্যবহার করেন, তাহলে পারণের সময়ে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। কারণ সূর্যোদয়ের সময় এক নয়। আবার স্মার্ত, গোস্বামী ও ইসকনভিত্তিক ক্যালেন্ডারেও কোনো কোনো একাদশী এক দিন আগে বা পরে পড়তে পারে।
- ২০২৬ সালে সাধারণভাবে প্রায় ২৪টি একাদশী পালিত হয়।
- তাই বাংলাদেশের স্থানভিত্তিক সূর্যোদয় ও পঞ্জিকা অনুসরণ করা জরুরি।
- ব্রত ভাঙার নাম পারণ এবং এটি সাধারণত দ্বাদশী তিথিতে হয়।
- ইসকন বা গোস্বামী মতে পালন করলে সংশ্লিষ্ট পরম্পরার ক্যালেন্ডারকে অগ্রাধিকার দিন।
একাদশী তালিকা ২০২৬ বাংলাদেশ
একাদশী তালিকা ২০২৬ বাংলাদেশ সংস্করণে মাসভিত্তিক ব্রতের নাম ও প্রচলিত তারিখ দেওয়া হয়েছে। তাই নিচের তারিখগুলো প্রাথমিক তথ্যসূচি হিসেবে ব্যবহার করুন। অঞ্চল, পঞ্জিকা ও ধর্মীয় মতভেদ অনুযায়ী কিছু তারিখে এক দিনের পার্থক্য থাকতে পারে।
| মাস | একাদশীর নাম | প্রচলিত তারিখ |
|---|---|---|
| জানুয়ারি | ষটতিলা একাদশী | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ |
| জানুয়ারি | জয়া বা ভৈমী একাদশী | ২৮ বা ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ |
| ফেব্রুয়ারি | বিজয়া একাদশী | ১২ বা ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| ফেব্রুয়ারি | আমলকী একাদশী | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| মার্চ | পাপমোচনী একাদশী | ১৪ বা ১৫ মার্চ ২০২৬ |
| মার্চ | কামদা একাদশী | ২৮ বা ২৯ মার্চ ২০২৬ |
| এপ্রিল | বরূথিনী একাদশী | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ |
| এপ্রিল | মোহিনী একাদশী | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ |
| মে | অপরা একাদশী | ১৩ মে ২০২৬ |
| মে | পদ্মিনী একাদশী | ২৭ মে ২০২৬ |
| জুন | পরমা একাদশী | ১১ জুন ২০২৬ |
| জুন | নির্জলা একাদশী | ২৫ বা ২৬ জুন ২০২৬ |
| জুলাই | যোগিনী একাদশী | ১০ বা ১১ জুলাই ২০২৬ |
| জুলাই | শয়নী বা দেবশয়নী একাদশী | ২৫ জুলাই ২০২৬ |
| আগস্ট | কামিকা একাদশী | ৯ আগস্ট ২০২৬ |
| আগস্ট | শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী | ২৩ বা ২৪ আগস্ট ২০২৬ |
| সেপ্টেম্বর | অজা বা অন্নদা একাদশী | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| সেপ্টেম্বর | পার্শ্ব বা পরিবর্তিনী একাদশী | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| অক্টোবর | ইন্দিরা একাদশী | ৬ বা ৭ অক্টোবর ২০২৬ |
| অক্টোবর | পাশাঙ্কুশা একাদশী | ২২ অক্টোবর ২০২৬ |
| নভেম্বর | রমা একাদশী | ৫ নভেম্বর ২০২৬ |
| নভেম্বর | প্রবোধিনী বা দেবোত্থান একাদশী | ২০ বা ২১ নভেম্বর ২০২৬ |
| ডিসেম্বর | উৎপন্না একাদশী | ৪ বা ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ |
| ডিসেম্বর | মোক্ষদা একাদশী | ২০ ডিসেম্বর ২০২৬ |
উপরের তালিকায় ২৪টি প্রচলিত একাদশীর নাম রয়েছে। তবে বিশেষ চন্দ্রতিথি বা অধিমাসের কারণে কোনো কোনো বছরে সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই একাদশী তালিকা ২০২৬ বাংলাদেশ হিসেবে এটি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকার পূর্ণ হিসাব মিলিয়ে নিন।
তারিখ নির্ধারণের ভিত্তি কী?
একাদশী হলো চন্দ্রপক্ষের একাদশ তিথি। হিন্দু চান্দ্র পঞ্জিকায় প্রতি মাসের শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষে একটি করে একাদশী আসে। তিথি কখন শুরু এবং কখন শেষ হচ্ছে, সেই হিসাব চাঁদের অবস্থান ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ওপর নির্ভর করে।
কখনো একাদশী তিথি একটি দিনের সূর্যোদয় থেকে পরের দিনের সূর্যোদয় পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে কেবল ক্যালেন্ডারের তারিখ দেখে ব্রতের দিন ঠিক করলে ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকা তিথির অবস্থান, সূর্যোদয় ও ধর্মীয় নিয়ম একসঙ্গে বিবেচনা করে।
সূর্যোদয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ব্রতের দিন নির্ধারণে স্থানীয় সূর্যোদয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রধান কারণ হলো ধর্মীয় পঞ্জিকার দিন গণনা। কোনো স্থানে সূর্যোদয়ের আগে তিথি শুরু হলেও অন্য স্থানে একই সময়ে তিথির অবস্থান আলাদা হতে পারে। তাই বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার ও ভারতের কোনো শহরের ক্যালেন্ডার সব সময় এক হবে না।
ধরা যাক, ঢাকা ও খুলনায় একই একাদশীর তিথি চলছে। তবু দুই শহরের সূর্যোদয়ের সময় ভিন্ন হওয়ায় পারণের সময়ে সামান্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এই কারণেই স্থানভিত্তিক ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা বেশি কার্যকর।
পঞ্জিকাভেদে তারিখ আলাদা হয় কেন?
পঞ্জিকাভেদে একাদশীর তারিখ আলাদা হতে পারে, কারণ সব ধর্মীয় পরম্পরা একই গণনাপদ্ধতি অনুসরণ করে না। স্মার্ত পদ্ধতি, গোস্বামী বা বৈষ্ণবীয় পঞ্জিকা এবং ইসকনভিত্তিক ক্যালেন্ডারে তিথি ও ব্রতের দিন নির্ধারণের নিয়মে পার্থক্য থাকতে পারে।
| পদ্ধতি | সাধারণ গুরুত্ব | কাদের জন্য প্রাসঙ্গিক |
|---|---|---|
| স্মার্ত | তিথির অবস্থান ও সূর্যোদয় | অনেক গৃহস্থ ভক্ত |
| গোস্বামী বা বৈষ্ণবীয় | নিজস্ব পরম্পরার পঞ্জিকা ও আচার | নির্দিষ্ট বৈষ্ণবীয় পরম্পরার অনুসারী |
| ইসকন | গৌড়ীয় বৈষ্ণবীয় নিয়ম, তিথি ও পারণ | ইসকনভক্ত ও সংশ্লিষ্ট অনুসারী |
একটি ওয়েবসাইটে ২৩ আগস্ট এবং অন্য পঞ্জিকায় ২৪ আগস্ট দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে কোনো তথ্যকে ভুল বলা ঠিক নয়। বরং কোন শহরের জন্য হিসাব করা হয়েছে এবং কোন মতের পঞ্জিকা ব্যবহার করা হয়েছে, তা আগে দেখুন।
ইসকন ক্যালেন্ডার কীভাবে দেখবেন?
ইসকন বা International Society for Krishna Consciousness গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংগঠন। ইসকনভিত্তিক ক্যালেন্ডারে সাধারণত একাদশীর তারিখ, তিথি, পারণের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানের তথ্য থাকে।
ঢাকার জন্য ২০২৬ সালের ইসকন একাদশী ক্যালেন্ডার দেখতে ঢাকা-ভিত্তিক ইসকন একাদশী ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে। পেজটি খোলার পর অবশ্য শহর ও বছর সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
- বাংলাদেশের শহর নির্বাচন করুন: ঢাকা, চট্টগ্রাম বা খুলনার মতো শহরের মধ্যে আপনার অবস্থানের কাছাকাছি শহর বেছে নিন। কারণ সূর্যোদয়ের সময় এক নয়।
- বছর যাচাই করুন: ক্যালেন্ডারে ২০২৬ সাল নির্বাচন করা আছে কি না দেখুন। ২০২৫, ২০২৬ ও ২০২৭ সালের তালিকা এক নয়।
- পারণের তথ্য পড়ুন: শুধু একাদশীর তারিখ নয়, “Parana” বা “Fast Breaking” অংশও দেখুন।
- স্থানীয় মন্দিরের নির্দেশনা মিলিয়ে নিন: বাংলাদেশে কোনো ইসকন মন্দির বা সংশ্লিষ্ট বৈষ্ণব প্রতিষ্ঠান আলাদা ক্যালেন্ডার প্রকাশ করলে সেটিও বিবেচনা করুন।
একাদশী তালিকা ২০২৬ বাংলাদেশ PDF খুঁজলে প্রকাশক, সাল, অঞ্চল এবং পঞ্জিকার ধরন যাচাই করুন। বিশেষ করে পুরোনো PDF বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ছবি দেখে ব্রতের দিন নির্ধারণ করা নিরাপদ নয়।
গোস্বামী মতে একাদশী কখন?
গোস্বামী মতে একাদশী পালনের দিন নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বৈষ্ণবীয় পঞ্জিকা ও আচার-অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত। তবে সব গোস্বামী পরম্পরা একই ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে না। তাই নির্দিষ্ট কোনো পরম্পরার অনুসারী হলে সেই পরম্পরার মন্দির, পঞ্জিকা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দিন।
ইসকন গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরম্পরার অনুসারী হওয়ায় তাদের ক্যালেন্ডারে বৈষ্ণবীয় নিয়ম ও তিথির বিশেষ অবস্থান বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্মার্ত ও ইসকন ক্যালেন্ডারে এক দিনের পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, এখানে “সঠিক” তারিখ বলতে সবার জন্য একই তারিখ বোঝায় না। বরং আপনি যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের স্থানভিত্তিক ক্যালেন্ডারই আপনার জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক।
পারণ কখন করতে হয়?
পারণ হলো একাদশী উপবাস ভাঙার ধর্মীয় প্রক্রিয়া। প্রচলিত নিয়মে একাদশীর পরের দ্বাদশী তিথিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় প্রতিটি একাদশীর জন্য আলাদা হতে পারে, তাই শুধু ব্রতের তারিখ দেখে পারণের সময় অনুমান করা ঠিক নয়।
পারণের সময় কী নির্ধারণ করে?
- দ্বাদশী তিথি কখন শুরু ও শেষ হচ্ছে।
- স্থানীয় সূর্যোদয়ের সময়।
- একাদশী তিথির অবস্থান।
- অনুসৃত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিয়ম।
- বিশেষ তিথি বা মহাদ্বাদশীর গণনা।
- পঞ্জিকার স্থানভিত্তিক হিসাব।
পারণ যাচাইয়ের সহজ পদ্ধতি হলো প্রথমে আপনার অনুসৃত পঞ্জিকা খুলে একাদশীর নাম ও তারিখ খুঁজে বের করা। এরপর পরের দিনের “Parana Time” বা পারণের সময় দেখুন। পাশাপাশি সময়টি ঢাকা নাকি অন্য কোনো শহরের জন্য দেওয়া হয়েছে, সেটিও যাচাই করুন।
ধর্মীয় রীতিতে পারণের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকতে পারে। তাই ইচ্ছামতো দিনের যেকোনো সময় উপবাস ভাঙার বদলে সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকার সময় অনুসরণ করা ভালো। তবে অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন।
ব্রত পালনের সাধারণ নিয়ম
একাদশী ব্রত ভগবান বিষ্ণু, শ্রীকৃষ্ণ বা নারায়ণের প্রতি ভক্তি, আত্মসংযম, প্রার্থনা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত। তবে উপবাসের ধরন পরিবার, ধর্মীয় পরম্পরা ও ব্যক্তিগত সক্ষমতা অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
উপবাসের ধরন
অনেক ভক্ত একাদশীতে চাল, গমসহ শস্যজাতীয় খাবার পরিহার করেন। কেউ ফলাহার করেন, কেউ জল পান করে উপবাস রাখেন এবং কেউ নির্জলা উপবাস পালন করেন। তবে সব ধরনের উপবাস সবার জন্য উপযোগী নয়।
পূজা ও আত্মসংযম
ভক্তরা এই দিনে নামসংকীর্তন, গীতা পাঠ, বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ বা মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নিতে পারেন। অনেকে দান, সেবা ও ধর্মীয় পাঠে সময় দেন। ফলে একাদশী কেবল খাবার এড়ানোর দিন নয়; এটি সংযম ও আধ্যাত্মিক মনোযোগের দিন হিসেবেও পালিত হয়।
আগের দিনের প্রস্তুতি
- ব্রতের তারিখ ও অনুসৃত পঞ্জিকা নিশ্চিত করুন।
- উপবাসের ধরন নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ঠিক করুন।
- পূজা বা পাঠের প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে প্রস্তুত রাখুন।
- দ্বাদশীর পারণের সময় আগেই লিখে রাখুন।
- পরের দিনের কাজের সময়সূচি বিবেচনা করে বিশ্রামের ব্যবস্থা করুন।
নির্জলা একাদশীতে সতর্কতা
নির্জলা একাদশীতে অনেকে জলসহ সব ধরনের খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকেন। এটি কঠোর উপবাসের একটি রূপ। তবে দীর্ঘ সময় জল না খেয়ে থাকা অনেকের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা পরিশ্রমের দিনে।
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ ব্যক্তি এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত। কেউ নির্জলা উপবাসে সক্ষম না হলে ধর্মীয় পরম্পরায় প্রচলিত ফলাহার বা অন্য কোনো অপেক্ষাকৃত সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
উপবাসের সময় অসুস্থতা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে উপবাস চালিয়ে যাওয়ার বদলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। কারণ ধর্মীয় অনুশীলন ব্যক্তির স্বাস্থ্যকে অগ্রাহ্য করার কারণ হওয়া উচিত নয়।
তারিখের বিভ্রান্তি এড়ানোর উপায়
ইন্টারনেটে একাদশীর তারিখ খুঁজলে একাধিক ওয়েবসাইটে আলাদা তথ্য পাওয়া স্বাভাবিক। তাই বিভ্রান্তি কমাতে একটি নির্ভরযোগ্য, স্থানভিত্তিক এবং আপনার ধর্মীয় পরম্পরার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পঞ্জিকা বেছে নিন। এরপর পুরো বছর একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
- একই বছরের ক্যালেন্ডার ব্যবহার করুন: ২০২৬ সালের জন্য ২০২৫ সালের তালিকা বা পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ব্যবহার করবেন না।
- স্থানভিত্তিক তথ্য দেখুন: ভারতের কোনো শহরের সময়সূচি বাংলাদেশের সঙ্গে সব সময় মিলবে না।
- ধর্মীয় মত খেয়াল করুন: স্মার্ত, গোস্বামী, ইসকন বা অন্য বৈষ্ণবীয় পরম্পরার মধ্যে আপনার অনুসৃত মতটি নির্ধারণ করুন।
- পারণ আলাদাভাবে যাচাই করুন: ব্রতের তারিখ ঠিক হলেও পারণের সময় অন্য হতে পারে।
- স্থানীয় মন্দিরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন: বিশেষ করে এক দিনের পার্থক্য দেখা গেলে মন্দিরের নির্দেশনা কাজে লাগতে পারে।
সাধারণ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর
২০২৬ সালে মোট কতটি একাদশী আছে?
সাধারণ বছরে প্রায় ২৪টি একাদশী থাকে। তবে বিশেষ চন্দ্রতিথি বা অধিমাসের কারণে সংখ্যা বদলাতে পারে, তাই নির্দিষ্ট পঞ্জিকার পূর্ণ তালিকা দেখে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
একাদশী তালিকা ২০২৬ বাংলাদেশ PDF কোথায় পাব?
ধর্মীয় পঞ্জিকা, বৈষ্ণব মন্দিরের প্রকাশিত ক্যালেন্ডার এবং নির্ভরযোগ্য অনলাইন পঞ্জিকায় PDF বা তালিকা পাওয়া যেতে পারে। তাই সাল, অঞ্চল ও প্রকাশক যাচাই করুন।
ইসকন একাদশী PDF কি সবার জন্য একই?
সব সময় নয়। শহরভেদে সূর্যোদয় ও পারণের সময় বদলাতে পারে। এছাড়া স্মার্ত বা অন্য ধর্মীয় পরম্পরার ক্যালেন্ডারের সঙ্গেও এক দিনের পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
একাদশী পারণ কখন করতে হয়?
সাধারণত দ্বাদশী তিথিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারণ করা হয়। সঠিক সময় জানতে আপনার শহর ও অনুসৃত পরম্পরার পঞ্জিকার “Parana Time” দেখুন।
একাদশীতে কি ভাত খাওয়া যায়?
অনেক প্রচলিত ব্রতপদ্ধতিতে চাল, গমসহ শস্যজাতীয় খাবার বাদ দেওয়া হয়। তবে খাদ্যসংক্রান্ত নিয়ম পরম্পরাভেদে আলাদা হতে পারে। তাই নিজের ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করুন।
নির্জলা একাদশী কখন?
২০২৬ সালের নির্জলা একাদশী বিভিন্ন পঞ্জিকায় ২৫ বা ২৬ জুন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তাই ব্রত পালনের আগে আপনার অনুসৃত স্থানভিত্তিক পঞ্জিকা থেকে দিন নিশ্চিত করুন।
একাদশীর তারিখ কি জেলা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়?
তিথি চন্দ্রগণনার ওপর নির্ভরশীল হলেও ব্রতের দিন ও পারণের সময়ে স্থানীয় সূর্যোদয়ের প্রভাব থাকে। তাই জেলা বা শহরভেদে ক্যালেন্ডারে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
গোস্বামী মতে একাদশীর তালিকা কোথায় পাব?
সংশ্লিষ্ট গোস্বামী পরম্পরার পঞ্জিকা, মন্দিরের ক্যালেন্ডার বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সাধারণ অনলাইন তালিকা সব পরম্পরার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
একাদশীর আগে কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
ব্রতের তারিখ, উপবাসের ধরন, পূজার সামগ্রী এবং দ্বাদশীর পারণের সময় আগে জেনে রাখুন। পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী উপবাসের পদ্ধতি বেছে নিন।
সময়সূচি যাচাই করা কেন জরুরি?
ভুল তারিখে ব্রত, ভুল সময়ে পারণ বা ভিন্ন পঞ্জিকার তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই একটি নির্ভরযোগ্য স্থানভিত্তিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করলে ঝুঁকি কমে।
সতর্কতা: নিয়োগের মতোই ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের ক্ষেত্রেও যাচাইহীন PDF, নাম না জানা পেজ বা অর্থ চাওয়া কোনো উৎসের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। একাদশীর তারিখ ও পারণের সময় জানতে নির্ভরযোগ্য পঞ্জিকা, সংশ্লিষ্ট মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করুন।
বাংলাদেশে পঞ্জিকা বাছাইয়ের শেষ কথা
একাদশী তালিকা ২০২৬ বাংলাদেশ ভক্তদের সারা বছরের ব্রতের দিন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়। তবে নির্দিষ্ট তারিখ ও পারণের সময় নির্ধারণে স্থানীয় সূর্যোদয়, তিথি, পঞ্জিকার গণনা এবং ধর্মীয় পরম্পরা একসঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
বিশেষ করে নির্জলা, যোগিনী, শ্রাবণ পুত্রদা, পার্শ্ব, উৎপন্না এবং দেবোত্থান একাদশীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্যালেন্ডার যাচাই করুন। স্মার্ত, গোস্বামী, ইসকন এবং অন্যান্য বৈষ্ণবীয় পরম্পরার তারিখে পার্থক্য থাকলে আপনার অনুসৃত প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনাই অনুসরণ করুন।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা যাচাইহীন PDF দেখে ব্রত ও পারণের দিন ঠিক করবেন না। বরং ব্রতের আগে শহর, বছর, একাদশীর নাম এবং পারণের সময়—এই চারটি তথ্য মিলিয়ে নিন। পাশাপাশি নিজের শারীরিক সুস্থতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে ভারসাম্য রাখুন।